রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :
উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদী থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে একসময়কার জনপ্রিয় ও সুস্বাদু দেশি মাছ বৈরালি। কয়েক দশক আগেও নদীতে প্রচুর বৈরালি ধরা পড়লেও এখন তা বিরল দৃশ্য। বাজারে অল্পসংখ্যক বৈরালি এলেও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারতের ভেতরে তিস্তার ওপর নির্মিত একাধিক বাঁধ পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত করছে। ফলে নদীতে চর জেগে উঠছে, পানির গভীরতা কমছে, আর বিলুপ্তির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বৈরালি মাছসহ তিস্তার দেশীয় নানা প্রজাতির জলজ প্রাণীকে। একসময় নদীতে শুশুক, ঘড়িয়াল ও মিঠাপানির কচ্ছপও দেখা যেত—এখন সেগুলোও প্রায় নেই।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘বোরালি’ নামে পরিচিত এই মাছ স্বচ্ছ ও স্রোতস্বিনী পানির প্রজাতি। বাংলাদেশে এটি সীমিতভাবে পাওয়া যায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামে। এ ছাড়া ভারত, নেপাল ও মিয়ানমারের পাহাড়ি নদীতেও বৈরালির দেখা মেলে।
ছোট আকৃতির হলেও স্বাদে অতুলনীয় এই মাছের গড় দৈর্ঘ্য ৬-৭ ইঞ্চি। রুপালি গায়ে হালকা মেটে পিঠ ও হলুদাভ পেট—পুঁটি মাছের মতো কাঁটা থাকলেও তা নরম হওয়ায় খেতে অসুবিধা হয় না। জুন-আগস্ট প্রজনন মৌসুম, বর্ষার পানি ও স্রোত এদের প্রজননে সহায়ক। বৈরালির বিশেষত্ব—ইলিশের মতো ঝাঁক বেঁধে উজানমুখে সাঁতার কাটা।
স্থানীয়দের অভিমত
নদীপাড়ের বাসিন্দা হাসেম আলী বলেন, “আগে অতিথি এলে বৈরালি রান্না করে খাওয়াতাম, এখন বাজারে খুঁজেও পাই না। কিছু মাছ পাওয়া গেলেও দাম এত বেশি যে কিনতে পারি না।”
তিস্তা ব্যারাজ এলাকার জেলে লোকমান হোসেন জানান, “শীতে নদী শুকিয়ে যায়, বর্ষায় পানি আসে কিন্তু মাছ থাকে না। সারাদিন জাল টেনেও সংসার চালানো মুশকিল।”
শুটিবাড়ি হাটের মাছ ব্যবসায়ী আমির আলী বলেন, “চাহিদা প্রচুর, কিন্তু সরবরাহ নেই। যা পাই, কেজি ৫০০-৬০০ টাকা বিক্রি করেও চাহিদা মেটানো যায় না।”
ক্রেতাদের অভিযোগ—পুকুরের মাছ এনে ‘তিস্তার মাছ’ নামে বিক্রি করা হয়, যা আসল বৈরালি নয়।
সংরক্ষণে করণীয়
রিভারাইন পিপল নীলফামারী জেলা আহ্বায়ক আব্দুল ওদূদ বলেন, “আশির দশকে তিস্তায় প্রচুর জলজ প্রাণী ছিল। পানির প্রবাহ ব্যাহত ও দূষণে সেগুলো বিলুপ্তপ্রায়। তিস্তার ন্যায্য পানির হিস্যা ও ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নই সমাধান।”
ডিমলা ইউএনও ইমরানুজ্জামান জানান, প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা সীমিতকরণ ও বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু সাইদ বলেন, “প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ করা গেলে বৈরালি সংরক্ষণে সুফল মিলবে।”
এস