রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :
সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ ও কলাম লেখক গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, দেশের যে অবস্থা সেক্ষেত্রে এখন যারা উপদেষ্টা মন্ডলীতে রয়েছেন মন্ত্রীপদমর্যাদায় তাদের সম্পদ বিবরণী দিতে হবে। অবশ্যই দিতে হবে। এবং সম্পদ বিবরণী দিতে হবে স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসকে। কোনো খাতির নেই।
কোনো ছাড় নেই। প্রচলিত রাজনীতিতে রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি করে। আমরা এখন তাদেরকে লাথি দিচ্ছি, গুতা দিচ্ছি, জেলখানাতে ভরছি। তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি, রক্ত ঝড়িয়েছি।
অনেক মানুষ একজন দুজন নয়।
নিজের ইউটিউব চ্যানলে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন।
রনি বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের শ্রম, ঘাম, জীবন, যৌবন শেষ হয়ে গেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, সংগ্রাম করার জন্য।
এবং দুর্নীতিবাজদের পায়ের তলায় বুটের তলায় পিষ্ট হয়ে এই বাংলায় গত ১৫ বছরে যে সর্বনাশ ঘটেছে সেই সর্বনাশ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমরা সাধারণ জনগণ আমরা এই বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি।
যদি গত ১৫ বছরে আমার যে ক্ষয় হয়েছে, ক্ষতি হয়েছে। আমার যে কষ্ট হয়েছে, বেদনা হয়েছে, কেন? আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ বছর চেষ্টা করে তার সমস্ত রাষ্ট্রীয় মেশিনারিজ ব্যবহার করে গোলাম মওলা রনির মতো একজন মানুষকে অবদমিত করতে পারেনি। তার জবান বন্ধ করতে পারেনি। ব্যবসা-বাণিজ্য সব তচনচ করে দিয়েছে।
গুম করার ভয় দেখানো হয়েছে। গুলি করার ভয় দেখানো হয়েছে। তো এই যে আমি আমার মতো একজন মানুষ, সব শেষ করে দিয়েছি সততা ন্যায়পারণতা রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করার জন্য।
কিন্তু আমার যে অর্থ আমার যে বৃত্ত আমার যে পদ, পদবী যতটুক ছিল, এগুলো নিয়ে আমি তো মানে পৃথিবীর যে কোনো দেশে পায়ের উপর পা তুলে বাকি জীবন আরাম এবং আয়েশে কাটাতে পারতাম। দলবাজি করলে, পদ-পদবী চাইলে সবসময় তো আমার জন্য অনেক বিষয় অবধারিত ছিল। তো সেই জিনিসগুলো তো আমি বা আমার মতো এরকম হাজার হাজার মানুষ, লক্ষ লক্ষ মানুষ, আমরা করিনি, আমরা করছি না।
আমরা কি চাচ্ছি? আমাদের এ দেশে সমতা আসুক, দুষ্টের দমন হোক, সৃষ্টের পালন হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। এবং এই কারণে পাগলের মতো আমরা লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি। তার প্রেক্ষিতে আজকে যারা ক্ষমতায় বসেছেন তারা রাজসিংহাসনে আছেন। যদি জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের যারা তাদের সংগ্রাম কতদিনের বলেন ৩৬ দিনে? তারা কি করেছে? তারা ২৫ তারিখ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে আম্মা ডেকেছে, বঙ্গবন্ধুকে আব্বা ডেকেছে। এদের বেশিরভাগ লোক কয়জন লোক রাজপথে যাকে বলা হয় শেখ হাসিনাকে গালাগাল করেছে?
কিন্তু আমরা আমি যখন সংসদ সদস্য ছিলাম, ভরা মিটিং-এ শেখ হাসিনার সামনে দাঁড়িয়ে পার্লামেন্টারি কমিটির মিটিং-এ ডাকিয়ে বলছি যে, প্রধানমন্ত্রী আপনার কোনো চেইন অফ কমান্ড নেই। আপনার সরকারের কোনো চেইন অফ কমান্ড নেই। ২০১০ সালে বলেন তো, বুকে হাত দিয়ে এখন যারা আছে, এই ধরনের কথা এখন মানে ডক্টর মহতি ইমেজের সামনে গিয়ে বলতে পারেন? পারবেন না।
আচ্ছা সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী শাহজাহান খান, আবুল হোসেন, ওবায়দুল কাদের, মতিয়া চৌধুরী, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত মিডিয়ার সামনে এসে পার্সোনালি তাদের অফিসে গিয়ে যে সকল কথা বলেছি, মানে শরীর রীতিমত থরথর করে কাঁপে, এখন এই বয়সে যে সাহস আমাকে কে দিয়েছিল আমার সেই যে ১৫ বছরের সংগ্রাম, ১৭ বছরের সংগ্রাম আমার জাতীয় রাজনীতিতে ২৫ বছরের অংশগ্রহণ ২০০১ থেকে এই পর্যন্ত একদম প্রথম সারিতে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা। তারপর ছাত্রজীবন থেকে যদি রাজনীতি ধরেন এও প্রায় ৪২-৪৩ বছর।
এই যে সুদীর্ঘ কর্মজীবন, রাজনীতি, স্যাক্রিফাইস, জুলুম অত্যাচার ভোগ করা এগুলো করে যারা মাত্র ৩৬ দিন রাজনীতি করেছেন, তাদের হাতে আমরা ছেলের হাতের মোয়া তুলে দেইনি। রাষ্ট্র তুলে দিয়েছি। আমরা হিসাব চাই। হিসাব নেব। এখনো চাই। আর আগামীতে এই হিসাব কড়াইগণ্ডে আমরা আদায় করে ছাড়ব। এটাই হলো বাস্তবতা। আমাদের মত আরো অনেক লোক রয়েছে।
আর এখন যারা সরকারে আছেন এই ৩৬ দিনের যোদ্ধা তারা কয়জন? এর বাইরে যারা আসছেন উপদেষ্টা মন্ডলীতে এরা সবাই পোলাও খাওয়া মজনু। সারাজীবন তারা পোলাও খেয়েছেন। ফলে এই যে আমরা যারা রাজপথে লড়াই করেছি, কলম দিয়ে যুদ্ধ করেছি, মস্তিষ্ক দিয়ে যুদ্ধ করেছি, জবান দিয়ে যুদ্ধ করে চলেছি। তাদেরকে মোকাবেলা করা এত সহজ নয়। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এখনো আমরা দুটো ডালভাত উপার্জনের জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছি। আর আমাদের দেওয়া অর্থ পায়ের উপর পা তুলে বাংলাদেশে বসে খাবেন। হাঁস দিয়ে খাবেন, রুটি দিয়ে খাবেন, ওয়েস্টিনে নিয়ে গিয়ে খাবেন। তারপরে দেশের বাইরে পাচার করবেন। এটা হবে না। এটা কখনো অতীতে হয়নি, দেখেন না কেউ পারেনি। এরশাদ সাহেব পারেননি, বিএনপির যে সকল দুর্নীতিবাজ তারা পারেননি, শেখ হাসিনার যারা লোকজন তারা পারছেন? না। আপনারা পারবেন কি করে? কাজেই আমাদের যে গর্ব, যে জায়গা প্রেমের, যে জায়গা ভালোবাসাটির জায়গা, এখনো আপনাদের জন্য অবশিষ্ট রয়েছে এই জায়গাটি নষ্ট না করে আপনারা সম্পদের হিসাব দিন।
তারপর সেটা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিন ফলে আপনাদেরকে নিয়ে যে দুর্নাম হচ্ছে, বদনাম হচ্ছে, বিএনপির যে চেয়ারপার্সন তার একজন উপদেষ্টা আছেন না প্রাইভেট সেক্রেটারি আছেন মিস্টার সাত্তার। তিনি আটজন উপদেষ্টা সম্পর্কে সুস্পষ্ট অভিযোগ এনেছেন। এগুলো নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করার দরকার নাই। আপনারা সকল উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণী দেন। সাত্তার সাহেবের যদি সামর্থ্য থাকে তিনি তখন মামলা করবেন বা বলবেন যে এটা মিথ্যা তথ্য।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এই সরকার আসার পরে কত টাকা মানে তিনি গ্রামীণফোন থেকে নিয়েছেন? এসব নিয়ে নানা রকম কথাবার্তা হচ্ছে। আপনি সম্পদের হিসাব দিন। এই সময়টাতে গত এক বছর, দুই বছর আপনার যে সম্পদের ব্যাংক হিসাব থেকে শুরু করে আপনার টাকায় যা কিছু জমা হয়েছে সেগুলোর হিসাব দিন। অথবা আপনার যে বিদেশে কম্পানিগুলো রয়েছে সেই কম্পানিগুলোতে যে আপনি যদি কোনো শেয়ার ট্রান্সফার করে থাকেন, টাকা ট্রান্সফার করে থাকেন সেগুলোর হিসাব দিন। সমস্ত মানুষ আপনাকে মাথায় করে নাচবে। যদি কোন বিতর্ক না থাকে।
কেন এই কাজগুলো করা হচ্ছে না, বোঝার চেষ্টা করুন, আপনারা যদি ব্যর্থ হন, বহুদিন সেই ব্যর্থতার গ্লানী আমাদেরকে ভোগ করতে হবে। আমরা আপনাদেরকে এনেছি, আপনাদেরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি, এবং আপনাদেরকে ওই ক্ষমতায় বসানোর জন্য আমরা বড় বড় নীতি কথা বলেছি। পুরো জাতির কাছে আপনাদের বিরুদ্ধে যদি অভিযোগ ওঠে, আপনাদেরকে যদি দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, আপনাদের অবৈধ সম্পদের খবরাখবর যদি ভবিষ্যতে সেই যাকে বলা হয় উন্মুক্ত হয়ে যায়। তাহলে কোনো বিপ্লবের পক্ষে আমরা আর উচ্চস্বরে কথা বলতে পারব না। কোনো নীতি নৈতিকতার ছবক দিয়ে পত্রপত্রিকায় লিখতে পারব না। রাত জেগে জেগে টেলিভিশনে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রভাবশালী শক্তিশালীদের পক্ষে কথা না বলে বিপক্ষে কথা বলা। আর মুজলুমের পক্ষে সাফাই গাওয়া এটা সম্ভব হবে না। বুঝার চেষ্টা করুন।
যারা মন্ত্রীপদমর্যাদায় আছেন একদিন দুইদিন নয় সেই ২০০৯ সন থেকে কোনদিন একটা টেলিফোন করিনি। নীতি এবং আদর্শের জন্য। তো সেই নীতি এবং আদর্শের দোহাই দিয়ে বলছি, আপনারা শেষ হয়ে যাবেন না। আপনাদেরকে কেউ যেন দুর্নীতিবাজ বলতে না পারে। আপনাদেরকে কেউ যেন আঘাত করতে না পারে। তাহলে আমরা আর থাকি না। সম্পদের হিসাব বিবরণী দিন। এবং যারা আপনাদের চরিত্র নিয়ে, সততা নিয়ে, ন্যায় পরাণতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করছে, তাদেরকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিন।
এস