স্টাফ রিপোর্টার: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে। এর পরও যদি দলটি কোনো কর্মকাণ্ড করে, জনগণের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করে, তা শক্ত হাতে দমন করা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের নবনিযুক্ত ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
রোববার দুপুরে সেগুনবাগিচায় ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম মল্লিক এ হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, ‘যদি জনগণের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা কেউ করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সক্ষমতা ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের রয়েছে। আমার অধীনে এসপি-ওসিদের নির্দেশ দিচ্ছি, নিষিদ্ধঘোষিত কোনো সংগঠনের কর্মকাণ্ড আপনার এলাকায় চলবে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা নিষিদ্ধ কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত- তাদের সবাইকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের প্রাচীন, অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা রেঞ্জ পুলিশ। ১৮২৯ সালে ঢাকা বিভাগ গঠিত হয়। ভৌগলিকভাবে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। কারণ রংপুর বিভাগ ছাড়া অন্য সব বিভাগের সঙ্গে ঢাকা বিভাগের সীমানা রয়েছে। রাজধানী ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন জেলাগুলো দ্বারা পরিবেষ্টিত।
তিনি বলেন, ঢাকা রেঞ্জের অধীনে সব থানা-ফাঁড়ি-সার্কেল এসপি অফিস হবে জনগণের। জনগণের সেবা করার জন্যই আমরা দায়িত্ব পালন করি। আমার রেঞ্জের অধীন সব থানা হবে জনগণের। যে কোনো বিপদে ফার্স্ট রেসপন্ডার হিসেবে থানাকে জনগণের সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যতদিন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো- ন্যায়নীতি, পেশাদারত্ব ও সততার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করবো।
পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, যারা ভুক্তভোগী এবং অসহায়, তাদের কথা আমি সরাসরি শুনতে চাই। তাদেরকে কী রকম আইনগত সহায়তা দেওয়া যায়, সেটি নিজে দায়িত্ব নিয়ে দেখবো। থানাকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। নতুন স্বাধীন বাংলাদেশে ঢাকা রেঞ্জের সব থানা হবে ভুক্তভোগীদের প্রথম ভরসাস্থল।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে সাধারণ মানুষের কথা শুনতে চাই উল্লেখ করে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, অপরাধীর বিরুদ্ধে বা আমার অধীন পুলিশের বিরুদ্ধে যে কোনো অভিযোগ সরাসরি আমাকে জানাতে পারেন। আমার অফিসে নির্ধারিত সময়ে ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন ১৩ জেলার ৯৮ থানার মানুষ আমার কাছে আসতে পারবে। রেঞ্জের সংশ্লিষ্ট অফিসে যদি কাঙ্ক্ষিত সেবা না পায়, তাহলে আমি নিজেই তাদের কথা শুনে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করবো।
রিপোর্টাস২৪/এসএমএন