নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা চড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। বিশেষ করে গতকাল (শনিবার) চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয়েছে বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে ঢাকায় তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৪০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এই বছর ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
এখন পর্যন্ত দেশের অন্যান্য জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা দেশের ইতিহাসে বেশ চরম একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এই গরমের তীব্রতা আরও বেড়েছে ঢাকায় চলমান তাপদাহ এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে।
এই তীব্র গরমের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাটে চলতে গিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক শারীরিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, এবং পানি শূন্যতার ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে রিকশাচালক, পরিবহন শ্রমিক এবং দিনমজুরদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপদজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকার অধিকাংশ এলাকার রাস্তার তাপমাত্রাও বেশ উচ্চ, যা ধীরে ধীরে ভবনগুলির গা থেকে তাপ ছড়াতে থাকে। এই উচ্চ তাপমাত্রা শহরের পরিবেশে তীব্র গরমের অনুভূতি সৃষ্টি করছে, যার ফলে নগরবাসীরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
গরমের মাঝে রোববার (১১ মে) বিকেলে কিছুটা সস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিকেলের দিকে রাজধানীতে শুরু হয় ঠান্ডা বাতাসের হাওয়া, যা অনেকের জন্য এক ধরণের আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। নাগরিকরা পার্ক বা রাস্তার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বাতাসের ঠান্ডা লহরির মধ্যে কিছুটা আরাম পাচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর বাসিন্দারা বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করছেন। বেশিরভাগ নাগরিকের আশা, দ্রুত বৃষ্টি শুরু হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে এবং গরমের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
রাজধানী নিকেতনের বাসিন্দা মুজনীবিন নাইম রিপোর্টার্স২৪কে বলেন, এত গরম সহ্য করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিকেলে একটু ঠান্ডা হাওয়াতে অনেক আরাম পাচ্ছি, কিন্তু বৃষ্টি হলে তো জীবনটাই বদলে যাবে। আশা করি, দ্রুত বৃষ্টি আসবে।
অন্যদিকে শহরের কর্মজীবী তরুণ রাফিদ আহমেদ বলেন, গরমের মধ্যে বাহিরে কাজ করা একেবারে অসহনীয় হয়ে পড়েছে। আজকের বিকেলের ঠান্ডা বাতাস অনেক আরাম দিয়েছে, তবে আমি চাই বৃষ্টি আসুক, যেন গরমটা শেষ হয়।
প্রচন্ড গরমের মধ্যে শান্তির ঠান্ডা বাতাস এক ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে, তবে বৃষ্টির জন্য নগরবাসীর আশা প্রবল। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাপমাত্রা এখনও কিছুটা বেড়ে থাকতে পারে, তবে কিছুটা ঠান্ডা হাওয়া এবং মেঘলা আকাশ নিশ্চিতভাবেই নগরবাসীর জন্য একধরণের প্রশান্তি নিয়ে আসবে। সকলের চাওয়া, তীব্র গরমের পর বৃষ্টি তাদের জন্য হবে একটি সুখবর।