রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের সিভারস্ক শহর থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। সেনাদের জীবন বাঁচানো এবং ইউনিটের যুদ্ধ ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেইনের জেনারেল স্টাফ।
মঙ্গলবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, রুশ বাহিনী জনবল ও সামরিক সরঞ্জামে যথেষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ছোট ছোট ইউনিটে বিভক্ত হয়ে রুশ সেনারা ক্রমাগত ইউক্রেইনীয় সেনাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
যদিও সেনারা পিছু হটেছে, তার আগে রুশ বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করা হয়েছে। জেনারেল স্টাফের দাবি, সিভারস্ক শহর এখনও ইউক্রেইনীয় সেনাদের নিয়ন্ত্রণের কাছাকাছি রয়েছে এবং শত্রুপক্ষের অগ্রগতি রোধ করা হচ্ছে।
সামরিক পর্যবেক্ষণ সাইট ‘ডিপ স্টেট’ মঙ্গলবার রাতে জানায়, রুশ বাহিনী সিভারস্কের পাশাপাশি সুমি অঞ্চলের সীমান্ত সংলগ্ন হ্রাবোভস্ক গ্রামও দখল করেছে।
এর আগে ১১ ডিসেম্বর রাশিয়ার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সের্গেই মেদভেদেভ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানিয়ে দেন যে, তারা সিভারস্ক দখল করেছে। তবে তখন ইউক্রেইন কর্তৃপক্ষ এই দাবি অস্বীকার করেছিল।
কিইভ ইনডিপেনডেন্ট জানায়, মাত্র ১০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট শহরটি উত্তর দোনেৎস্কের প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি স্লাভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের মতো বড় শহরের ঢাল হিসেবে কাজ করত।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শুরু নাগাদ ইউক্রেইনের প্রায় ১৯ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে রয়েছে। এর মধ্যে লুহানস্কের পুরো এলাকা এবং দোনেৎস্কের ৮০ শতাংশের বেশি এলাকা অন্তর্ভুক্ত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় ক্রাইমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্ককে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দোনেৎস্কে ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গঠনের জন্য চাপ দিচ্ছে, যা রাশিয়া ‘অসামরিক অঞ্চল’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি