| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেয়ার বাজারে বড় ধস: সেনসেক্স ১,০০০ পয়েন্ট ভাঙল, বাজারের মূলধন কমল ৯ লাখ কোটি টাকা

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০১, ২০২৬ ইং | ১৯:৫০:৩৭:অপরাহ্ন  |  ১২৮ বার পঠিত
শেয়ার বাজারে বড় ধস: সেনসেক্স ১,০০০ পয়েন্ট ভাঙল, বাজারের মূলধন কমল ৯ লাখ কোটি টাকা

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : ভারতীয় শেয়ার বাজারে আজ বৃহস্পতিবার পুনরায় বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টানা শেয়ার বিক্রির জেরে দুপুর ২টোর মধ্যে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,০০০ পয়েন্টেরও বেশি নেমে যায়। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি ২২,৩০০-র নিচে নেমে আসে।

এই তীব্র পতনের ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা মুছে গেছে। বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির মোট বাজার মূলধন সকালে বাজার খোলার সময় ছিল ৪,৭১,৮৬,২৯২ কোটি টাকা, যা দুপুর ১:৪৫ মিনিটের মধ্যে কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৬২,৭১,৫৪৫ কোটি টাকায়। 

অর্থাৎ, কয়েক ঘণ্টাতেই বাজার মূলধন থেকে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেছে। বাজারের এই ধসের মূল কারণ বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি। শুধুমাত্র ৩০ সেপ্টেম্বর একদিনেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ১০,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ভারতীয় শেয়ার বিক্রি করেছেন। বিগত দুই ট্রেডিং সেশনে তাঁদের মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০,০০০ কোটি টাকার বেশি। এই পতনের নেপথ্যে বেশ কয়েকটি প্রধান অনুঘটক কাজ করছে। 

মার্কিন বন্ডের রিটার্ন বৃদ্ধি : মার্কিন ১০-বছরের ট্রেজারি বন্ডের রিটার্ন ৫.৩ শতাংশ অতিক্রম করেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের কাছে মার্কিন ফিক্সড-ইনকাম সম্পদগুলি বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, যা ভারতের মতো উদীয়মান বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারগুলির প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। 

টাকার মানের অবমূল্যায়ন: ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দর আরও কমে গিয়ে আজ ৯৬ টাকা অতিক্রম করেছে। রুপির দর পতনের কারণে ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ডলার-ভিত্তিক রিটার্ন কমে যায়, যা তাঁদের বাজার ছাড়তে বাধ্য করছে।

অপরিশোধিত তেলের দাম ও ভূ-রাজনীতি: ইরানের সাথে সংঘাতের পর সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ভারত তার চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানি করে, তাই অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়।

বাজারে অস্থিরতা: বিক্রি বাড়ার সাথে সাথে শেয়ার বাজারের অস্থিরতার সূচক 'ইন্ডিয়া ভিআইএক্স'  উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেনসেক্স ও নিফটির এই পতন পুরো বাজারের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।নিফটি ৫০ পুরো পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরতে পারে না, কারণ বর্তমানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ শেয়ারে বেশি বিনিয়োগ করেছে। নিফটি মিডস্মল ৪০০ সূচকটি তার রেকর্ড উচ্চতা থেকে মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ নিচে রয়েছে। বেশিরভাগ খুচরো বিনিয়োগকারী মিড ও স্মল ক্যাপ শেয়ার পছন্দ করায় নিফটি সঠিক মাপকাঠি নয়। গত পাঁচ বছরে এসআইপি-র মাধ্যমে আসা টাকা লার্জ ক্যাপের চেয়ে মিড ও স্মল ক্যাপের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। সেনসেক্স এবং নিফটি মূলত কয়েকটি বড় কোম্পানির দ্বারা চালিত হয়। তাই এই সূচকগুলির পতন একজন সাধারণ বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত নাও করতে পারে। 

২০২০ সালের শেষ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এনএসই-র নিবন্ধিত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি হয়েছে। অর্থাৎ বহু বিনিয়োগকারী বাজারে নতুন এসেছেন, যাঁরা মূলত বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকা অবস্থায় প্রবেশ করেছিলেন। বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ হল বাজার যখন ভালো ছিল তখন তৈরি হওয়া উচ্চ প্রত্যাশা। যাঁরা বছরে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত রিটার্ন দেখেছেন, তাঁদের কাছে এক অঙ্কের রিটার্ন হতাশাজনক মনে হওয়া স্বাভাবিক। তা সত্ত্বেও, বর্তমান বাজার বেশ চাপের মুখে রয়েছে। বর্ধিত মার্কিন বন্ড ইয়েল্ড, অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতা, টাকার দর পতন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রি—সব মিলিয়ে ভারতীয় শেয়ার বাজারের পরিবেশ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪