| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এবার ঢাবি শিক্ষককে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ইং | ১৯:৪৩:৩৯:অপরাহ্ন  |  ৪৫৭ বার পঠিত
এবার ঢাবি শিক্ষককে লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার: ‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) লাল কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা এ প্রতিবাদ জানান।

‎‎শিক্ষার্থীরা জানায়, নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়া এবং একই শ্রেণিকক্ষে ছয়জন ছাত্রকে এক বেঞ্চে বসতে দেখে তাদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে এসব আচরণের সমর্থকদের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তারা।

‎শিক্ষার্থীরা জানান, বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি এসব আচরণকে সমর্থনকারীদেরও তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।

‎‎এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েম বলেন, “তাসনিম সিরাজ মাহবুব ম্যাম ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী নেকাব করায় তাকে মৌলবাদী এবং সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেন। এছাড়া তিনি একই ক্লাসে ছেলেদের ৬ জন এক বেঞ্চে বসায় ‘গে’ এবং ‘গরিব’ বলে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে তিনি তার ফেসবুক লাইভে এগুলোর কোনো কিছু অ্যাড্রেস না করে একপাক্ষিক এআই নির্ভর বিবৃতি দেন।”

‎‎তিনি আরও বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি সামিনা লুৎফা, শিক্ষক নেটওয়ার্ক এবং তার অন্যান্য অনুসারী তাকে নির্লজ্জভাবে ডিফেন্ড করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের মূল অপরাধী হিসেবে প্রোট্রে করার চেষ্টা করছেন। আজকের প্রতীকী প্রতিবাদ তাদের সবার বিরুদ্ধে।”

‎‎এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, আমি আজকে বিভাগে ছিলাম না। সকালে ক্লাসের কোনো একসময় শিক্ষার্থীরা এ প্রতিবাদ করেছে বলে ফেসবুকে দেখেছি। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কিছু জানায়নি, তবে আমার অফিস থেকে একটু আগে শুনেছি তারা এ নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে।

‎‎​অভিযুক্ত শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, বিভাগে কোনো অভিযোগ এলে সেটি আমরা অ্যাকাডেমিক কমিটিতে উত্থাপন করি। সেখানে একটি রেজোলিউশন বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিনের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়, এটাই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রেও আমরা নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য বরাবর চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়ার অভিযোগ ওঠে সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।

এদিকে, তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে ক্লাস কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিবাদে গত রোববার (১১ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অভিনব প্রতিবাদ জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষক নেটওয়ার্কের নেত্রী সামিনা লুৎফা। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষকদেরও এ ধরনের প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড প্রদর্শনের কর্মসূচিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং তার প্রতি সমর্থন জানানো ব্যক্তিদের অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েম।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪