রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হবে জুলাই বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হয়েছে ওসমান হাদির লাশ। বিমানবন্দরে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তার কফিন গ্রহণ করেন জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা।
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, শরিফ ওসমান হাদিকে আজই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনা হচ্ছে না। তার লাশ বহনকারী গাড়ি বিমানবন্দর থেকে হিমাগারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। সেখানে শহিদ হাদিকে রেখে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নেবেন।
পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী শহিদ ওসমান হাদিকে কবি নজরুলের পাশে সমাহিত করা হবে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শনিবার বাদ জোহর তার জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। এ কারণে আজকের পরিবর্তে আগামীকাল হাদির লাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আনা হবে।
ইনকিলাব মঞ্চ বার্তা দিয়েছে, ছাত্র-জনতা আজ ও আগামীকাল শৃঙ্খলার সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন যেন কোনো গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করে আন্দোলন স্তিমিত করতে না পারে। একই সঙ্গে সহিংসতার সুযোগও যেন না পায়।
হাদির লাশ দেখা যাবে না জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ সকলের কাছে শৃঙ্খলা বজায় রাখার এবং শহিদ ওসমান হাদির জন্য দোয়া করার অনুরোধ করেছে।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ওসমান হাদি পরে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গড়ে তুলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আলোচনায় আসেন। বিভিন্ন টেলিভিশনের টক শোতেও নিয়মিত আমন্ত্রণ পেতেন তিনি। তার যুক্তিতর্কের অনেক ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার মাসখানেক আগে হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন ওসমান হাদি। নভেম্বর মাসে তিনি ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে ফোন ও মেসেজে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ ক্যাডাররা তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছে। তবে প্রাণনাশের আশঙ্কা সত্ত্বেও ইনসাফের লড়াই থেকে তিনি পিছিয়ে যাবেন না।
১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারে যাওয়ার সময় ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেলে থাকা দুই সন্ত্রাসী গুলি করে। রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার গুরুতরতা দেখে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টার পরও তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
ওসমান হাদিকে গুলিতে জড়িত মূল সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে। তারা বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভিন সামিয়া এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি