| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যশোরে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত জীবন

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫ ইং | ১৪:২৭:২২:অপরাহ্ন  |  ১০৩১৩১২ বার পঠিত
যশোরে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত জীবন

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা-বেনাপোল সীমান্তে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও বিরাজ করছে এ জেলায়। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দুই দিনে যশোরের এই তাপমাত্রা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় যেন হাড়ে কাঁপন লাগছে। কনকনে শীতে শ্রমজীবী মানুষ ও প্রাণীকুলের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দিনভর সূর্যের আলোর দেখা না মেলায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। কনকনে শীতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। শীতে একদম জবুথবু অবস্থা। পৌষের শীতে মানুষ রীতিমতো কাঁপছে। প্রচণ্ড এই শীতে ঠান্ডাজনিত রোগও বেড়েছে। শীতবস্ত্রের দোকানেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোরাঞ্চলে পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহেই ব্যারোমিটারের পারদ নেমে গেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আর সেই সঙ্গে গত কয়েক দিন ধরে বিরাজ করছে কুয়াশা ও বাতাসের দাপট। দুইয়ে মিলে হাড়ে কাঁপন লেগেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) যশোরের তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর আগে শুক্রবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল যশোরে।

এদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট ও মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। শীতের কারণে সারাদিনই গরম পোশাক পরে মানুষজনকে চলাচল করতে দেখা যায়। সন্ধ্যার পর থেকে বাজারে ও চায়ের দোকানে মানুষের উপস্থিতি কমতে শুরু করে।

তবে শৈত্যপ্রবাহ হলেও ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই শ্রমজীবী মানুষের। বেনাপোল ভবারবেড় মসজিদের সামনে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ জন মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হয়ে থাকেন। প্রচণ্ড শীতে সেই সংখ্যা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। তারপরও কাজ না পাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কিছু মানুষ অনেক বেলা পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন কাজের আশায়।

ঘিবা এলাকার জামছের আলী বলেন, শীতে এক দিন কাজ পাই তো, তিন দিন পাই না। গত এক সপ্তাহ ধরে কাজ হচ্ছে না। শীতের মধ্যে প্রতিদিন ভোরবেলায় এসে বসে থেকেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

ছোট আঁচড়া গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক জালাল উদ্দিন বলেন, শীতে বাইরে দাঁড়াতে পারছি না। অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই। কাজের সন্ধানে বের হয়েছি। ঠিকমতো কাজও পাচ্ছি না।

বাহাদুরপুর এলাকার শ্রমজীবী নজরুল ইসলাম বলেন, বিল্ডিংয়ের রঙের কাজ করি। কাজের সন্ধানে এসেছি। এখানে বসে আছি। এখনো কাজ পাইনি। শীতের ভেতরে অনেক কষ্ট হচ্ছে। পেটের দায়ে ঘরের বাইরে বের হয়েছি। কাজ পাব কি না জানি না।

বেনাপোল রেলস্টেশনের ইজিবাইক চালক হানিফ মিয়া বলেন, শীতে ঘর থেকে মানুষ বের হচ্ছে খুবই কম। ট্রেনেও যাত্রী অনেক কম এসেছে। এ জন্য যাত্রী পাচ্ছি না। আয়-রোজগারও কমেছে। খুবই কষ্টে দিন পার করছি।

বেনাপোল স্থলবন্দরের হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে আজ অনেক শ্রমিক কাজে আসতে পারেননি। আজ বন্দর বন্ধ থাকায় তেমন সমস্যা হয়নি। আগামীকাল থেকে বন্দর ও কাস্টমস খোলা থাকবে। মালামাল লোড-আনলোডে অনেক কষ্ট হবে। তারপরও শ্রমিকরা তাদের কাজ করবেন।

অপরদিকে শীতের তীব্র প্রকোপে বেশির ভাগ শিশুর জ্বর, সর্দি, হাঁচি, কাশি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগ দেখা দিচ্ছে। বয়স্ক মানুষরাও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। নাভারন ৫০ শয্যা হাসপাতালের মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে। বহির্বিভাগ থেকেও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ জানান, হাসপাতালে শীতজনিত রোগী বেড়েছে। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। শীতজনিত রোগ থেকে রক্ষা করতে শিশুর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। গরম পানি পান করানোসহ গরম কাপড় পরানো এবং হাত ও পায়ে মোজা ব্যবহার করতে হবে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সব বয়সের মানুষেরই রয়েছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪