| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেনাপোলসহ সব স্থলবন্দরে মাশুল ৫ শতাংশ বাড়লো

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ইং | ০১:৩৩:০২:পূর্বাহ্ন  |  144973 বার পঠিত
বেনাপোলসহ সব স্থলবন্দরে মাশুল ৫ শতাংশ বাড়লো

বেনাপোল প্রতিনিধি: দেশের সব স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ, হ্যান্ডলিং ও যাত্রীসেবায় গড়ে ৫ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যার একটি বেনাপোল স্থলবন্দরের জন্য এবং অন্যটি বেনাপোল ব্যতীত কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য স্থলবন্দরগুলোর জন্য।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন ট্যারিফ আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ হার পুনর্নির্ধারণের ক্ষমতাও কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।

ভারতের সঙ্গে স্থলপথে দেশের আমদানি-রফতানির বড় অংশ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। পণ্য ও যানবাহনের চাপ এবং রাজস্ব আয়ের বিষয় বিবেচনায় বেনাপোলকে আলাদা ট্যারিফ সূচির আওতায় রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বিদ্যমান ট্যারিফের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ যুক্ত করে বেনাপোলের নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে যানবাহন প্রবেশ ফি, গুদাম ও খোলা আঙিনায় পণ্য সংরক্ষণ, হ্যান্ডলিং চার্জ, নথিপত্র প্রস্তুত, যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং যাত্রীসেবাসহ প্রায় সব খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, বেনাপোল স্থলবন্দরে ট্রাক, বাস ও লরির প্রবেশ ফি বাড়িয়ে প্রতি প্রবেশে ১৮৪ টাকা ৭০ পয়সা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ ও পিকআপের ক্ষেত্রে ১১০ টাকা ৮২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ছোট যানবাহন, মোটরসাইকেল ও ভ্যানের ক্ষেত্রেও প্রবেশ ফি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পণ্যের ওজন পরিমাপ, অতিরিক্ত নথিপত্র প্রস্তুত, গুদামে যানবাহনের অবস্থান এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবার ফিও বাড়ানো হয়েছে।

বেনাপোল বন্দরে প্রথম তিন দিন বিনা খরচে পণ্য রাখার সুবিধা বহাল থাকলেও, পরবর্তী সময়ে গুদাম ও ইয়ার্ডে সংরক্ষণ ভাড়া ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ পণ্যের ক্ষেত্রে গুদামে প্রতি টনের জন্য দৈনিক ভাড়া ১৩ টাকা ৯৮ পয়সা, যা আগে ছিল ১৩ টাকা ৩১ পয়সা।

এছাড়া সুতা, কাপড়, চা, কাগজ, চামড়া, কাঠসহ বিভিন্ন পণ্যের সংরক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। টায়ার, টিউব, মোটরসাইকেল, তিন চাকার যান, ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্রাক ও ট্রেইলারের জন্য গুদাম ও খোলা আঙিনায় সংরক্ষণ খরচও বেড়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল ক্রেন, ফর্কলিফটসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে।

শ্রমিক দিয়ে পণ্য ওঠানামা ও গুদামে সাজানোর ক্ষেত্রে প্রতি টনে হ্যান্ডলিং চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ টাকা ৭৬ পয়সা। যন্ত্রপাতি ব্যবহারে হ্যান্ডলিং ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বেনাপোল যাত্রী টার্মিনালে যাত্রীদের প্রবেশ, অপেক্ষা ও সেবা চার্জ মিলিয়ে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫২ টাকা ২৭ পয়সা, যা আগে ছিল ৪৯ টাকা ৭৯ পয়সা।

ট্যারিফ বৃদ্ধির খবরে বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর আমদানি-রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, “বন্দরের মাশুল বাড়লে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজারদরে পড়বে এবং ভোক্তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।”

যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে। এ অবস্থায় মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।”

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত শর্ত অনুযায়ী প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে ট্যারিফ সমন্বয়ের বিধান আগে থেকেই ছিল। নতুন হার সেই ধারাবাহিকতার অংশ মাত্র। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ট্যারিফের দ্বিগুণ চার্জ প্রযোজ্য হবে এবং রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে গুদাম ভাড়ায় ১০ শতাংশ ছাড় বহাল থাকবে। সব ধরনের চার্জের ওপর সরকার নির্ধারিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করা হবে।

একই দিনে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে বেনাপোল ব্যতীত ভোমরা, বুড়িমারী, তামাবিল, আখাউড়া, সোনামসজিদসহ দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরেও ২০২৫ সালের ট্যারিফের ওপর ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে ২০২৬ সালের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বন্দরের ক্ষেত্রেও নতুন ট্যারিফ ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪