আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর দেশে দ্রুত ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। একই সঙ্গে তিনি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, এমন নির্বাচন হলে তার নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নিরঙ্কুশ জয় পাবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মার্কিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করে মাচাদো বলেন, মাদুরোর পতনের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথ খুলে গেছে।
‘যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরব’
যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৮ বছর বয়সী শিল্প প্রকৌশলী ও তিন সন্তানের জননী মাচাদো বলেন,আমি যত দ্রুত সম্ভব ভেনেজুয়েলায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। এই রাজনৈতিক রূপান্তরকে এখন সামনে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি দাবি করেন,২০২৪ সালের নির্বাচনে আমরা জালিয়াতির মধ্যেও বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছিলাম। যদি সত্যিকারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, আমরা ৯০ শতাংশের বেশি ভোটে জয়ী হব।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে ছদ্মবেশে ভেনেজুয়েলা ছাড়েন মাচাদো। সে সময় তিনি একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার গ্রহণ করেন, যা তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন।
ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে বিরোধীদের হতাশা
যদিও মাচাদো ট্রাম্পের ভূমিকাকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন, তবে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন আপাতত মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এমন ইঙ্গিত মিলেছে। এতে ভেনেজুয়েলার বিরোধী শিবির ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
মাচাদো বলেন, ডেলসি রদ্রিগেজ নির্যাতন, নিপীড়ন, দুর্নীতি ও মাদক পাচারের অন্যতম নেপথ্য কারিগর। তিনি রাশিয়া, চীন ও ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে তিনি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নন এবং ভেনেজুয়েলার জনগণও তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
‘৩ জানুয়ারি ইতিহাসে লেখা থাকবে’
মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রশংসা করে মাচাদো বলেন,৩ জানুয়ারি ইতিহাসে লেখা থাকবে যেদিন ন্যায়বিচার একটি স্বৈরশাসনকে পরাজিত করেছে। তিনি জানান,সুযোগ পেলে তিনি নিজ হাতে ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কার তুলে দেবেন।
দেশে উত্তেজনা, গ্রেপ্তার ও গুলির শব্দ
এদিকে মাদুরো গ্রেপ্তারে সহযোগিতার অভিযোগে ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে। কারাকাসে ঘটনাপ্রবাহ কভার করার সময় অন্তত ১৪ জন সাংবাদিককে সাময়িকভাবে আটক করা হয়।
রয়টার্স যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, সোমবার রাতে কারাকাসে আকাশে গুলি ছোড়া হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অননুমোদিত ড্রোন ঠেকাতেই পুলিশ এ ব্যবস্থা নেয়।সরকারের যোগাযোগবিষয়ক উপমন্ত্রী সিমন আরেচিদার বলেন,কোনো সংঘর্ষ হয়নি। দেশ পুরোপুরি শান্ত রয়েছে।
রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি
স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় এখনও প্রায় ৯০০ রাজনৈতিক বন্দি কারাগারে রয়েছেন। মাচাদোর দল ভেন্তে ভেনেজুয়েলা অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে এবং এটিকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নিউইয়র্কে মাদুরোর বিচার
অন্যদিকে, নিউইয়র্কের একটি আদালতে মাদক পাচারের অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন নিকোলাস মাদুরো। হাতকড়া ও কারাবন্দির পোশাক পরে আদালতে হাজির হয়ে তিনি বলেন, তিনি একজন ‘সৎ মানুষ’ এবং এখনও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মাদক কার্টেলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোকেন পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন মাদুরো। তবে তিনি এ অভিযোগ বরাবরের মতো অস্বীকার করে বলেছেন, এটি ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে রাশিয়া, চীনসহ একাধিক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর বলেছে,এটি এমন বার্তা দিচ্ছে যে শক্তিশালীরা যা খুশি তাই করতে পারে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বলেন,লাতিন আমেরিকার ইতিহাস বলে হস্তক্ষেপ কখনো গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা বা কল্যাণ বয়ে আনেনি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি