রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: হিমালয়ের একেবারে কাছাকাছি অবস্থানের কারণে পঞ্চগড়ে ফের জেঁকে বসেছে শীত। জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে ঠিকই, তবে শীতের তীব্রতা একটুও কমেনি। টানা কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ওঠানামা করছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি শীত মৌসুমে এই অঞ্চলের অন্যতম সর্বনিম্ন।
পঞ্চগড়ের অন্যান্য উপজেলাতেও বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তির দিকে থাকলেও কনকনে ঠান্ডা অব্যাহত রয়েছে। উত্তর হিমালয় অঞ্চল থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসের প্রভাবে সকাল ও রাতের ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলাতেও সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে, ফলে শীতের প্রকোপ সারাদিনই অনুভূত হচ্ছে।
এই কনকনে ঠান্ডায় গ্রামাঞ্চলের মানুষজন বাধ্য হয়ে গরম কাপড় পরে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। তবে শীতের তীব্রতা বাড়লেও সরকারি পর্যায়ে শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যখাতেও। জেলার হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে প্রতিদিনই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি। যারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কেবল তারাই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় তেঁতুলিয়ায় প্রতি বছরই শীত তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৯ শতাংশ। সামনে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, শীতের এই প্রবল দাপটে পঞ্চগড়ের জনজীবন ক্রমেই আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম