রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে তার মৃত স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী শিশুসন্তানের জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়াকে নাগরিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, পরিবারের পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো সত্ত্বেও জুয়েল হাসান সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে কেবল কারাফটকে মরদেহ দেখানোর ঘটনা সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে আসক উল্লেখ করে, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং সমান আইনি সুরক্ষার অধিকারী। অনুচ্ছেদ ৩১ নাগরিককে আইনের আশ্রয় লাভের নিশ্চয়তা দেয় এবং ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একজন বিচারাধীন বন্দী হিসেবে জুয়েল হাসান সাদ্দাম এসব সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত নন। অথচ তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মৃত্যুজনিত চরম মানবিক পরিস্থিতিতে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া তাকে অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শিকার করেছে বলে মন্তব্য করে আসক।
সংস্থাটি আরও জানায়, প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের ১ জুন একটি নীতিমালা জারি করে, যেখানে বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান কিংবা নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই নীতিমালা প্রশাসনিক বিবেচনার বিষয় হলেও তা ইচ্ছামতো বা যুক্তিহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করা যায় না। পরিবারের আবেদন থাকা সত্ত্বেও এ বিধান প্রয়োগ না করা আইনের উদ্দেশ্য ও ন্যায্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী বলে মনে করছে আসক।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ (আইসিসিপিআর)-এর রাষ্ট্রপক্ষ। ওই সনদের ৭ অনুচ্ছেদে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ নিষিদ্ধ এবং ১০(১) অনুচ্ছেদে স্বাধীনতাবঞ্চিত ব্যক্তিদের সঙ্গে মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের কথা বলা হয়েছে। কারাফটকে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য মরদেহ দেখিয়ে একজন শোকাহত বন্দিকে জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করা এসব আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আসক আরও জানায়, কোন আইন বা নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে পরিবারের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তা জানার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি তার কারণ প্রকাশ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও আইনের শাসনের অংশ। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নীরবতা প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার ও বৈষম্যের গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করে সংস্থাটি। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের স্বপ্রণোদিত পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি