ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: সুদানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর আল-ওবেইদে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) শিগগিরই হামলা আরও জোরদার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ কয়েক ডজন দেশ। তাদের সতর্কবার্তা, এতে ব্যাপক নৃশংসতা ঘটতে পারে এবং প্রায় পাঁচ লাখ বেসামরিক মানুষ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
বৃহস্পতিবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত টরমোড এন্ড্রেসেন বলেন, আল-ওবেইদে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির ঝুঁকি রয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বড় ধরনের নৃশংসতার শিকার হতে পারেন, যাদের মধ্যে এক লাখের বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছেন।
নরওয়ের নেতৃত্বে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে আরএসএফকে অবিলম্বে আল-ওবেইদে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিটি ‘কোয়ালিশন ফর অ্যাট্রোসিটি প্রিভেনশন অ্যান্ড জাস্টিস ফর সুদান’-এর পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়। এতে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়েসহ মোট ২৮টি দেশ অংশ নেয়।
উত্তর করদোফান অঙ্গরাজ্যের রাজধানী আল-ওবেইদ সুদানের অন্যতম বৃহৎ শহর। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি ভয়াবহ সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে জাতিগত সহিংসতা, দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধিও ছড়িয়ে পড়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরএসএফ এবং তাদের প্রতিপক্ষ সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ)-এর ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায় এবং নতুন নৃশংসতা ঠেকানো সম্ভব হয়। একই সঙ্গে বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
তিন বছরের বেশি সময়ের যুদ্ধের পর বর্তমানে সুদানি সেনাবাহিনী দেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে আরএসএফ। কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ করদোফান অঞ্চলটি নিয়ে এখন দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত টানা ১০ দিনের ড্রোন হামলায় আল-ওবেইদ ও উত্তর করদোফানে অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত অক্টোবরে আরএসএফ দারফুরের বড় শহর আল-ফাশির দখল করে নেয়। প্রায় ১০ লাখ মানুষের আবাসস্থল এই শহরটি চূড়ান্ত হামলার আগে দেড় বছরের বেশি সময় অবরুদ্ধ ছিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কও বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন, আসন্ন হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, আল-ওবেইদের বাসিন্দারা ইতোমধ্যে ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা এর আগেও এমন পরিস্থিতি দেখেছি। গত বছর উত্তর দারফুরের আল-ফাশির ও জামজাম বাস্তুচ্যুত শিবিরে যে প্রতিরোধযোগ্য নৃশংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এটি বিশ্বের জন্য আসন্ন মানবাধিকার বিপর্যয় এবং আরও গভীর মানবিক সংকটের কঠোর সতর্কবার্তা। যেসব রাষ্ট্রের প্রভাব রয়েছে, তাদের এখনই তা ব্যবহার করে এই উন্মত্ততা থামানোর দায়িত্ব রয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্র এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সংঘাত চলাকালে পশ্চিম দারফুরে অ-আরব জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনেছে আরএসএফের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ থেকে এ সহিংসতার সূত্রপাত বলে মনে করা হয়।
তবে আরএসএফ জাতিগত বিদ্বেষমূলক হত্যাকাণ্ডের দায় অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি