ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ৩২ প্রহরব্যাপী শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ ধর্মীয় আয়োজন পরিদর্শন করে ভক্ত ও আয়োজকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি আলহাজ খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।
উপজেলার ময়না ইউনিয়নের ময়না গ্রামের ফটিক চন্দ্র বিশ্বাসের বাড়িতে এ মহানাম যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। প্রয়াত রমা রানী বিশ্বাসের ১১তম তিরোধান তিথি এবং শ্রী উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাসের অকালমৃত্যুর নবম বার্ষিকী স্মরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজনের মধ্যে রয়েছে মহানাম সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, নগর পরিক্রমা ও মহাপ্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। দিন-রাতব্যাপী মহানাম সংকীর্তনে মুখরিত হয়ে উঠেছে অনুষ্ঠানস্থল। দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন এবং প্রয়াত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা করছেন।
মহানাম যজ্ঞ পরিদর্শনকালে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, “আমি আপনাদের লোক। আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন। প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ভোট পেয়েছি, যা এ যাবৎকালের মধ্যে বিএনপির সবচেয়ে বেশি ভোট। যদিও আমি নির্বাচিত হতে পারিনি, কিন্তু আমার দল বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। বিএনপি সব নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের অধিকার আদায়ে আগেও সচেষ্ট ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। আপনারা আমাকে ভাই হিসেবে, সন্তান হিসেবে আপনাদের প্রার্থনায় রাখবেন।”
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহানাম সংকীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, ময়না ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আজম মৃধা, সাতৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু, বিএনপি নেতা জাকির হোসেন টিআই, ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম জহিরসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
এ সময় বক্তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। এ ধরনের আয়োজন সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আয়োজক ফটিক চন্দ্র বিশ্বাসের জ্যেষ্ঠ ছেলে পলাশ বিশ্বাস বলেন, প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতেই প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হয়। এবারের মহানাম যজ্ঞেও বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব