| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আইএমএফের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা সরকারের

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ইং | ১৬:২০:৪৫:অপরাহ্ন  |  ৭৭৬৪ বার পঠিত
আইএমএফের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা সরকারের

সোমনাথ দে, ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) থেকে: বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সংস্কারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সহায়তা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, চলতি অর্থবছরে বাজেটে নির্ধারিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে সরকার আশাবাদী। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপির অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘প্রথম বিষয় হচ্ছে, এই প্রথম আমাদের দেশের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ অন্যান্য বহুপাক্ষিক সংস্থা, যেমন বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান, যেমন জাইকা, চীনের এক্সিম ব্যাংক বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থাগুলো উল্লেখ করছে যে আমাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই সংস্কারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহযোগিতাগুলো দেওয়া হচ্ছে এবং শুধু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলই না, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের সহায়তা দিচ্ছে।’

আইএমএফের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘এক ধরনের ভুল-বোঝাবুঝি হতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের যে পূর্বাভাস উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে বিষয়টি প্রণিধানযোগ্য। তাদের এই বক্তব্য, অর্থাৎ যদি সংস্কার না হয়, তাহলে এই ধরনের প্রবৃদ্ধি এবং এই ধরনের মূল্যস্ফীতির বক্তব্য তাদের নিজস্ব।’

তিনি বলেন, ‘পূর্বাভাসে একেকটা প্রতিষ্ঠানের একেক রকমের পূর্বাভাস। সাধারণত লক্ষণীয় যে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রক্ষেপণগুলো আরও উপরে থাকে।’

আইএমএফের আর্টিকেল ফোর মিশনের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি খেয়াল করি, তাহলে দেখব যে আর্টিকেল ফোর মিশনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা আছে ৪ দশমিক ৭। তাহলে দেখা যাচ্ছে, পূর্বের যত বছরের গড় হিসাব করা যায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রক্ষেপণগুলো সব সময় সংরক্ষণশীল হয়।’

সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী যে আমাদের বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে, ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। কারণ সংস্কারগুলো আমরাই ম্যানিফেস্টোতে উল্লেখ করেছি এবং পরবর্তীতে পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক কৌশলেও উল্লেখ করেছি।’

মূল্যস্ফীতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই লক্ষ্য করেছি যে মূল্যস্ফীতির একটা বিরাট অংশ আসছে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট থেকে। তাছাড়া অতীতে উত্তরাধিকারসূত্রেও আমরা প্রলম্বিত মূল্যস্ফীতির সম্মুখীন হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল, সেগুলো পতিত সরকারের সময় এবং অতীতে কার্যকর ছিল না। সবাই একমত যে, যাদের তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা ছিল, তারা তালিকাভুক্ত হয়নি; যাদের তালিকাভুক্ত না হওয়ার কথা ছিল, তারা তালিকাভুক্ত হয়েছে। অধিকাংশ সামাজিক সুরক্ষার কর্মসূচি ছড়ানো-ছিটানো ছিল।’

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গত তিন বছর ঠিকমতো সামাজিক সুরক্ষা বলয় না নেওয়ার কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে।’

নতুন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ বিশ্বব্যাংক সবাই উল্লেখ করেছে যে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো পদক্ষেপগুলো খুবই সঠিকভাবে সামাজিক সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আমরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, অর্থাৎ অরাজনৈতিক পদ্ধতিতে যাচ্ছি না। দ্বিতীয় বিষয়টি আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, আমরা একটা ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের দিকে যাচ্ছি।’

সামাজিক ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একই সঙ্গে সমস্ত দাতা, যারা আমাদের উন্নয়ন সহযোগী, তারা আমাদের বলেছেন যে আমরা সামাজিক খাতে বিশেষ করে জিডিপির ৫ শতাংশের যে কথা বলেছি বা স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির যে ৫ শতাংশের কথা বলেছি, এগুলো সবই প্রশংসনীয় হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ আমাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। যেকোনো ঋণের কিছু শর্ত থাকে। প্রোগ্রামটা আপনারা কীভাবে নিতে চাচ্ছেন, কত দিনের জন্য, কত পরিমাণের জন্য।’

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ সহায়তার পরিমাণ ও কর্মসূচির আকার সম্পর্কে জানতে চাইলে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে একটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় এবং সেই পদ্ধতি অনুযায়ীই এটা যাবে। আমরা এও মনে করি, যেহেতু আমরা প্রতিটি পদক্ষেপেই খুব দ্রুততার সঙ্গে কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছি, এক্ষেত্রেও দ্রুততার সঙ্গে কার্যকরী পদক্ষেপ।’

কর্মসূচির আকার নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এসব আলোচনা, প্রোগ্রামের সাইজ, কোন প্রোগ্রামের সাইজটা আমরা জানি।’

ঋণ সহায়তার পরিমাণ নিয়ে দর-কষাকষি হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলো সব দর-কষাকষির বিষয়।’

পরে তিনি আবারও বলেন, ‘সবই দর-কষাকষি। আমাদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহযোগিতার হাত।'

অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের এখানে খুব পরিষ্কার মনে রাখতে হবে, এই বিষয়গুলো ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, আমরা কর-জিডিপির অনুপাত ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চাই। দ্বিতীয়ত, ব্যাংক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাই।’

ব্যাংক খাতে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই আমরা লক্ষ্য করেছি যে আমানতকারী যাতে খেয়ানত না হন, সেই জন্য সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একটা আস্থা ফিরে এসেছে। তারপরে আইনি কাঠামোয় সংশোধন করা হয়েছে। নতুন নতুন আইন যুক্ত করা হবে।’

ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের প্রসঙ্গে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমাদের সব সময় সদা সচেতন থাকতে হবে। সেটা হচ্ছে, পতিত সরকারের জন্য আজকে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণকে ৪০ বিলিয়ন ডলার খেয়ানত দিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, সম্মিলিত প্রয়োগের মাধ্যমে আমাদের এই খেলাপি ঋণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

ব্যাংক খাত থেকে অর্থ লুটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা লুট করেছে বা যারা লুটপাটকারীদের সহায়তা করছে, সে দেশে হোক, বিদেশে হোক, সব সময় আমাদের মনে রাখতে হবে যে তাদের জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে। কারণ এটা তো জনগণের অর্থ।’

তিনি আরও বলেন, ‘৪০ বিলিয়ন ডলার লুট করা হয়েছে ব্যাংক খাত থেকে। আর অন্যান্য খাত থেকে কী অর্থ লুট করা হয়েছে, এটা তো একটা ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম।’

ভবিষ্যতে আবারও এ ধরনের লুটপাট হতে পারে কি না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।’

এরপর তিনি বলেন, ‘যারা যারা এই ধরনের লুটপাটকারীদের সহায়তা করছে, তারা যদি সহায়তা না করে, নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে কারও যদি দুরভিসন্ধি থাকে, সে কয়েকবার চিন্তা করবে।’

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪