চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চোরাই ছয়টি মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জোরারগঞ্জের আব্দুর রহমান ওরফে সুমন ওরফে আনোয়ার (২৭), মীরসরাইয়ের মাইনুদ্দিন মুরাদ (২৭), খাগড়াছড়ির রামগড়ের শাহাদাত হোসেন (৩০) এবং নোয়াখালীর সুধারামের আবু হুরায়রা (৩০)।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিসি মো. হাবিবুর রহমান প্রাং জানান, গত ১২ অক্টোবর ভোরে নগরের সিআরবি কাঠের বাংলোর সিঁড়ির গোড়ায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
আব্দুর রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সকালে মীরসরাইয়ের মিঠানালা ইউনিয়নের ইছহাক ড্রাইভার হাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিপরীতে অভিযান চালিয়ে মাইনুদ্দিন মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি হোন্ডা মোটরসাইকেল ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মিঠানালার রহমতাবাদ এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর জোরারগঞ্জের ইছাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকেও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর বিকেলে নোয়াখালীর সুধারাম থানার এওয়াজ বালিয়া ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে আবু হুরায়রাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে দুটি মোটরসাইকেল ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরে ১৩ অক্টোবর রাতে সুধারাম থানার দাতপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
ডিসি হাবিবুর রহমান প্রাং বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চট্টগ্রাম নগরসহ চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত। তাঁরা বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নিজেদের হেফাজতে রাখতেন। জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার করা মোটরসাইকেলগুলো চোরাই জেনেও নিজেদের কাছে রাখার কথা স্বীকার করেছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চারটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ বিভিন্ন আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ