| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চট্টগ্রাম হবে সব ধর্মের মানুষের নিরাপদ ও সম্প্রীতির নগরী: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ইং | ২৩:২৫:৫৭:অপরাহ্ন  |  ১১৯ বার পঠিত
চট্টগ্রাম হবে সব ধর্মের মানুষের নিরাপদ ও সম্প্রীতির নগরী: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
ছবির ক্যাপশন: নন্দন কানন বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামকে সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, নান্দনিক ও সম্প্রীতির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রোববার বিকেলে সম্মিলিত প্রবারণা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে চট্টগ্রাম নগরীর নন্দন কানন চট্টগ্রাম বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গনে প্রবরণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রবারণা পূর্ণিমার সন্ধ্যায় হয়েছে বর্ণিল ফানুস উৎসব। 

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহ্যগতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী। এ নগরে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে বসবাস করবে। কোনো অপশক্তি যেন নগরীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি শান্তিপূর্ণ নগরী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য ও গৌতম বুদ্ধের জন্মস্মৃতির প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, গৌতম বুদ্ধের জন্মের সঙ্গে পদ্মফুলের যে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য জড়িয়ে আছে, সেই ভাবনা থেকেই বৌদ্ধ বিহারের সামনে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় গুরুদের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী এ উদ্যোগকে আরও নান্দনিকভাবে সাজানো হবে। এ ক্ষেত্রে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নতুন নকশা ও পরামর্শ দেওয়া হলে সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এই পদ্ম মোড় আরো সুন্দর করে সাজিয়ে দিব। এই শহর সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ শহর হবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যের বাণী উদ্ধৃত করে বলেন, “গাহি সাম্যের গান—মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।” তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক নগরীতে পরিণত করতে হবে।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মেয়র বলেন, নগরীর কালুরঘাট এলাকায় একটি ভূমি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়ন ও কল্যাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি সব সময় তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

বক্তব্যে মেয়র  প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি বলেন, “জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।”

নন্দন কানন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. জিনবোধি ভিক্ষু বলেন, “দীর্ঘ দিনের চেষ্টায় মেয়র মহোদয় উনার উদ্যোগে পদ্ম স্থাপন করেছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে যাতে আরো দৃষ্টিনন্দন করে স্থাপন করেন এই মোড়কে সেই অনুরোধ। সবাইকে প্রবারণার শুভেচ্ছা। অশান্ত বিশ্বে শান্তি ও সুখ কামনায় প্রার্থনা করছি আজ প্রবারণার দিনে।

সম্মিলিত প্রবারণা উদযাপন পরিষদ প্রধান সমন্বয়ক রুবেল বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উৎসবের উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪