| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ইং | ১১:০২:৪৩:পূর্বাহ্ন  |  ৫৭৯ বার পঠিত
বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে জাপান। এ বিনিয়োগের আওতায় গাড়ি উৎপাদন, বিভিন্ন শিল্প খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলো অগ্রাধিকার পেতে পারে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া গত ২২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার বিষয়ে জাপানের সম্মত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এ বিনিয়োগ পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নতুন শিল্প উদ্যোগ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পরিকল্পনার আওতায় জাপানের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন ও কার্যক্রমে সুমিতোমো করপোরেশনসহ জাপানের একাধিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। এসব অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ এলে উৎপাদনমুখী শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি প্রযুক্তি ও শিল্পদক্ষতা স্থানান্তরের সুযোগও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে গাড়ি উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ শিল্পে বিনিয়োগ বাড়লে দেশের উৎপাদন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন শিল্পকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের খাতভিত্তিক বরাদ্দ, প্রকল্পের সংখ্যা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্ত হলে এর সম্ভাব্য প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে বিনিয়োগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তাঁর শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও দুই নেতার আলোচনায় স্থান পেতে পারে। সম্ভাব্য বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে অগ্রগতি হলে তা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সহযোগিতা এবং জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

এ ছাড়া মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরা-সহ জাপানের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা করার কথা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা বাংলাদেশের শিল্প, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে।

টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামেও মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা অংশ নেবেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা, জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের অংশ হিসেবে বুধবার ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন এবং প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার নাগোয়া শহরে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে জাপানের উৎপাদনশিল্প, প্রযুক্তি ও ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে শিল্প সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) সই হয়েছে। এ চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশের জন্য জাপানের বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন প্রযুক্তি অর্জন এবং উৎপাদন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লক্ষ্য। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জাপানি কোম্পানির অংশীদারত্ব বাড়লে দেশের শিল্প খাত আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি এখনো প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে বিনিয়োগের চূড়ান্ত পরিমাণ, কোন কোন খাতে অর্থ ব্যয় হবে এবং কীভাবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪