কটিয়াদী ( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : একে একে ১০ যুগের বেশি সময় পার করে আসা বৃদ্ধা মল্লিকা বানু খাবারের অভাবে ছটফট করছেন৷ একবার খাবার খেলে বাকি দু’বেলা খাবার জুটবে কিনা তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় কাটাতে হয়। বর্তমানে জীর্ণশীর্ণ হয়ে বসবাস করছেন তিনি। অভাব অনটনের সাথে যুদ্ধ করে কাটছে দিন।
শতবর্ষী মল্লিকা বানুর অনাহারে দিনযাপনের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন খাবার ও চাল নিয়ে বাড়িতে ছুটে গিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার সশ্রম-ধুলদিয়া ইউনিয়নের মধ্য পুরুরা গ্রামের ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মল্লিকা বানু। স্বামী মো. হাসু ৪৫ বছর আগে মারা যায়। তার তিন ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। হতদরিদ্র ছেলে কাদির মিয়ার ঘরে থাকেন তিনি৷ কিন্তু দরিদ্র ছেলে সংসার চালাতেই হিমসিম খাচ্ছে তার ওপর বয়স্ক মাকে দেখাশোনা করে যাচ্ছেন৷ এক বেলা খাবার জুটালে আরেক বেলা থাকেন দুশ্চিন্তায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণশীর্ণ শরীর নিয়ে বসে আছেন চৌকিতে৷ খাবারের অভাবে বিলাপ করে যাচ্ছেন৷ কিন্তু হতদরিদ্র ছেলের সংসারে মার জন্য ইচ্ছে থাকলেও কিছুই করতে পারছেনা৷ ঘরে গিয়েই দেখা যায় অভাবের স্পষ্ট ছাপ৷
পুত্রবধু রিমা আক্তার বলেন, 'আমাদের চেষ্টার কোন কমতি নেই৷ মাকে নিয়ে আমরা নিরুপায়৷ আমাদের সংসার অভাবের৷ স্বামী কাদির মিয়া কাজ করে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে পরিবারের তিনবার খাবার যোগাড় করাই কষ্টসাধ্য।'
ছেলে কাদির মিয়া বলেন, আমার মায়ের বয়স ১২০ বছরের অধিক। বৃটিশ থেকে পাকিস্তান আমল সবকিছুই দেখে এসেছেন তিনি৷ কিন্তু অভাবের কারণে আমরা খুব অসহায় দিন কাটাচ্ছি৷ মায়ের মুখে তিনবার খাবার দিতে পারছিনা৷
এলাকাবাসী জানায়, একসময় মল্লিকা বানু ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন৷ কিন্তু বর্তমানে চলাফেরা করতে না পারার কারণে খুব কষ্টে কাটছে দিন৷ সরকারি সহায়তা ও দানশীল ব্যাক্তিরা এগিয়ে আসার দাবি তাদের৷
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, 'বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক ৷ আমি আপনার ( প্রতিবেদক) থেকে শুনে নিজে গিয়ে এবং সাথে সমাজসেবা কর্মকতা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সহ তাত্ক্ষণিকভাবে বাড়িতে গিয়ে বৃদ্ধা মাকে সকল সহায়তা ও খাবার দিয়ে এসেছি। পাশাপাশি সামনে আরো যাবতীয় সহায়তা করার পদক্ষেপ নিচ্ছি৷'
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব