মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মকিমপুর মৌজায় তিন পুরুষের পৈতৃক আবাদি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পক্ষের বিরুদ্ধে। আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করায় ভুক্তভোগী পরিবার মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, জমির ৬৫ শতাংশ মালিক মো. হাসেম গং (৫৫)। তিনি মৃত কাছের উদ্দিনের ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিকানা পান। তবে আরএস রেকর্ডে মাত্র ৩৫ শতাংশ নথিভুক্ত থাকায় বাকিটুকুর মালিকানা নিশ্চিত করতে তিনি মানিকগঞ্জ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা করেন।
ভুক্তভোগী শুকুর আলীর অভিযোগ, মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় মকিমপুর এলাকার মৃত তারু মিয়ার পাঁচ ছেলে চাঁন মিয়া, সাদেক, নালে, রাজা মিয়া ও বাকনু, একাধিকবার জমি দখলের চেষ্টা চালায়। সম্প্রতি তারা রাতের আঁধারে সেখানে দুটি টিনের ঘর নির্মাণ করে। এ ঘটনায় শুকুর আলী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আদালতের নোটিশ গ্রহণের পরও বিবাদীপক্ষ আবারও জমিতে ছাপড়া ঘর তোলে। বাধা দিলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীদের ধাওয়া করার অভিযোগ ওঠে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও ঘর অপসারণ করা হয়নি।
মো. হাসেম বলেন, “এটি আমাদের তিন পুরুষের পৈতৃক সম্পত্তি। আমরা এ জমিতে ধান, ভুট্টা ও সবজির আবাদ করি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ দখলের চেষ্টা করছে। সরকারের কাছে আমরা আইনগত সহায়তা চাই।”
এলাকাবাসীর দাবি, হাসেম গং দীর্ঘদিন ধরে জমিতে ভুট্টা আবাদ করছেন। তাদের মতে, আদালতের আদেশ অমান্য করে বিবাদী পক্ষের এ কার্যকলাপ বিচারব্যবস্থার প্রতি চরম অবমাননা। দ্রুত প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ (চান্দু দারোগা) জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে বিবাদী রাজা মিয়া মোবাইলে জানান, জায়গাটি রাস্তার পাশে অবস্থিত। নোটিশ পাওয়ার দিনই ঘর তোলার দাবি করেন তিনি। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভুট্টার চাষাবাদ করা জমির ওপরই নতুন করে ছাপড়া ঘর বসানো হয়েছে।
সদর থানার বিট অফিসার এসআই আশরাফুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দু’পক্ষকে চলে যেতে বলা হয় এবং আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন