মাদারীপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাদারীপুরে স্বাস্থ্য সহকারীরা ৬ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন। রোববার (৫ অক্টোবর) সকাল থেকে মাদারীপুর সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ করে কর্মবিরতি শুরু করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত স্বাস্থ্য সহকারীরা।
এর আগে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে স্বাস্থ্য সহকারীরা বিক্ষোভ মিছিলসহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন।
কর্মসূচিতে অংশ নেন বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন মাদারীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ হোসেন, সদর উপজেলা সভাপতি মো. ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক মো. জব্বার হাওলাদার, মহিলা সম্পাদক ইয়াসমিন আক্তার, উপদেষ্টা জাকারিয়া, নূরে আলম, সিরাজুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ মো. জামিল হোসেন মোল্লাসহ আরও অনেকে।
স্বাস্থ্য সহকারীদের ছয় দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়োগবিধি সংশোধন করা, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান যুক্ত করা, ১৪তম গ্রেড প্রদান, ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ,টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান,
পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ।
এছাড়াও বেতন বৈষম্য দূরীকরণ ও পদমর্যাদার ন্যায্য স্বীকৃতি প্রদানসহ আরও কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন তারা।
জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ হোসেন বলেন, ‘জন্মের পর থেকেই শিশুদের ১০টি মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় টিকা প্রদানের পুরো দায়িত্ব তৃণমূলের স্বাস্থ্য সহকারীরাই পালন করে থাকেন। এই কাজ অত্যন্ত টেকনিক্যাল হলেও আমরা এখনো টেকনিক্যাল পদমর্যাদা থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি, ফলে আমরা চরম বেতন বৈষম্যের শিকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা একমাত্র পেশাজীবী যারা প্রশিক্ষণ ও পদমর্যাদার দাবিতে আন্দোলন করছি। আশা করি সরকার আমাদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।’
অন্য বক্তারা বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের যে অর্জন, তার পেছনে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বিগত সরকারগুলো কেবল আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন করেনি। এবার যদি নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক ডিপ্লোমার মাধ্যমে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়, তবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।’
স্বাস্থ্য সহকারীরা আশা প্রকাশ করেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২৬ হাজার স্বাস্থ্য সহকারীর ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন করে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটাবে।’
রিপোর্টার্স২৪/ প্রীতিলতা