| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অধ্যাপক-সহযোগী অধ্যাপক বিহীন জাবিপ্রবি ক্যাম্পাস!

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৯, ২০২৫ ইং | ০৯:১৭:২৪:পূর্বাহ্ন  |  ১৪৪৮৩৩৭ বার পঠিত
অধ্যাপক-সহযোগী অধ্যাপক বিহীন জাবিপ্রবি ক্যাম্পাস!

জামালপুর প্রতিনিধি : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার ৮ বছর পরও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) পায়নি কোন অধ্যাপক কিংবা সহযোগী অধ্যাপক। অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক ছাড়াই চলছে এই পাবলিক বিশ্ব বিদ্যালয়ের, ৭টি বিভাগ এবং ৬টি অনুষদ।

ফলে জামালপুরের একমাত্র পাবলিক বিশ্ব বিদ্যালয়ের দেড় সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর একাডেমিক ভরসা নির্ভর করছে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের উপর। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা। 

এই বিশ্ববিদ্যালয়টি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ এলাকায় প্রায় ৩০ বছর আগে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারি কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। 

২০১৬ সালে এই কলেজকে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উন্নীত করা। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দীর্ঘ আট বছরেও বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুমোদন না হওয়ায় তৈরি হয়নি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। ফলে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব ও আবাসন ব্যবস্থার চরম সংকট তৈরি হয়েছে।

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (জাবিপ্রবি) নামকরণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্র থেকে জানা যায়, জাবিপ্রবিতে বর্তমানে ৫২ জন শিক্ষক রয়েছেন। তবে নেই কোনো অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার গুণগতমান ও গবেষণায় বিঘ্ন হচ্ছে। 

জাবিপ্রবি'র ৫২ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০ জনই আছেন শিক্ষা ছুটিতে। জুলাই আন্দোলনবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন প্রভাষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একজন সহকারী অধ্যাপককে ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। ফলে মাত্র ৪০ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে দেড় সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম ।

জানা যায়, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যারা ক্লাস নেন তারা সবাই প্রভাষক। এমনকি এই বিভাগের চেয়ারম্যানও একজন প্রভাষক। এছাড়া কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), সমাজকর্ম, ফিশারিজ, ব্যবস্থাপনা, গণিত ও ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যানরাও সহকারী অধ্যাপক।

গত প্রশাসনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসির) অভিন্ন নীতিমালা অনুযায়ী দুই দফা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। কিন্তু কঠোর শর্তের কারণে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় শিক্ষক নিয়োগ সম্ভব হয়নি। 

বর্তমান প্রশাসনও আট মাস আগে একই নীতিমালায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলো । কিন্তু ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও তেমন অগ্রগতি নেই।

অভিযোগ উঠেছে , সিনিয়রিটি হারানোর আশঙ্কায় সহকারী অধ্যাপকদের একটি অংশ নতুন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নিয়োগে বিপত্তির সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট চরমে উঠেছে। দেড় সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর জন্যমাত্র দুটি হল রয়েছে । মেয়েদের জন্য ২৫০ টি সিট আর ছেলেদের মাত্র ১২০ সিট রয়েছে ।

এছাড়া প্রতিটি বিভাগে প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ নেই,  ল্যাবগুলোতেও আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে,  লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব, গবেষণা যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত কনজ্যুমেবল না থাকায় প্র্যাকটিক্যাল ও গবেষণাধর্মী শিক্ষা কার্যক্রমের বিঘ্ন ঘটছে। আবাসন সংকট, বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থান মেলান্দহ উপজেলায় অজপাড়াগাঁয়ে হওয়ার কারণে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে জামালপুর জেলা শহর থেকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তাদের থাকতে হয় জেলা শহরের মেস কিংবা ভাড়া বাসায় ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা পায় ২০১৭ সালে। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। 

শুরু থেকে অদ্যাবধি অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগ  হয়নি। সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যারা রয়েছেন, তারা সবাই প্রভাষক থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত। ফলে জোড়াতালির মাধ্যমে চলছে জামালপুরের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা।  

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, 'আবাসন সংকটের কারণে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে জেলা শহরে অবস্থান করতে হচ্ছে। প্রতিদিন দেড়-দুই ঘণ্টা যাতায়াতে সময় নষ্ট করতে হচ্ছে। এ ছাড়া রাস্তায় যাতায়াতে ভোগান্তির পাশাপাশি ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে শঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষাবিদ সাবেক  অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান বলেন, যে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক অত্যাবশ্যকীয়। তা না হলে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশারফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তিনবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় বাইরে থেকে অধ্যাপকরা এখানে আসতে চান না। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক থেকে যারা পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপিও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪