ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহে সততা অয়েল মিলসে সরিষার তেলে শত্রুতাবশত পোড়া মবিল মেশানোর ঘটনায় শহরের খন্দকারপাড়ার বাসিন্দা মৃত তোজাম বিশ্বাসের ছেলে ও নতুন হাটখোলার সোনালী তোতা অয়েল মিলের কর্মচারী আসামী আশরাফুল ইসলাম ওরফে আশরাফ মিস্ত্রিকে আজ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঝিনাইদহের একটি আদালত।
মামলাসূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ঝিনাইদহের শেরে বাংলা অয়েল এন্ড রাইস মিলের মালিক আব্দুল মালেক ও কালীচরণপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ মদদে ব্যবসায়ী নওশের আলীর ক্ষতিপূরণসহ ব্যবসায়িক অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে সততা অয়েল মিলসের ১২ ড্রাম সরিষার তেলের মধ্যে পোড়া মবিল মিশিয়ে দেওয়া হয়; এ কাজটি এই আসামী আশরাফসহ আরও পাঁচজন মিলিয়ে করে বলে অভিযোগে বলা হয়।
ঘটনাটি তখন সারা শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় বাদী নওশের আলী ঝিনাইদহ থানা에 একটি অভিযোগ দায়ের করেন এবং পরে পুলিশ তদন্তে সাতজনকে আসামী করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলাকালীন ২০২১ সালে হাফিজুর রহমান মারা যান। চৌদ্দ বছরের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ মামলার রায় দেন ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মো. মাহবুব আলম। আদালত রায়ে স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ২৫(গ) ও ১(ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে আসামী আশরাফকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
মামলার বাদী মরহুম নওশের আলীর পুত্র ও সততা অয়েল মিলসের বর্তমান সত্তাধিকারী মিরাজ জামান রাজ রায়ে আংশিক সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন যে মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা—শেরে বাংলা অয়েল এন্ড রাইস মিলের মালিক আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন সহযোগী আসামি খালাস পেয়েছেন, যা তাকে হতাশ করেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, অন্যান্য আসামিদেরও ছাড় দেওয়া হবে না; তাদেরও শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন