ডিপ্লোম্যাটিক রিপোর্টার: ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশনের ‘টপ এগ্রি-ফুড পাইওনিয়ার ২০২৫’ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন খ্যাতনামা কৃষি উদ্যোক্তা আবদুল আউয়াল মিন্টু। বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবনী ভূমিকার জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয় তাঁকে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডেস ময়েন্সে আয়োজিত ‘বোরলগ ডায়ালগ’ সম্মেলনে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশন (ডব্লিউএফপিএফ) ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি লাল তীর সিড লিমিটেড এবং লাল তীর লাইভস্টক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা।
সম্মাননা পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এই অর্জন বাংলাদেশের কৃষক, গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। আমরা চাই বাংলাদেশের কৃষি হোক উদ্ভাবননির্ভর, টেকসই এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক। খাদ্য নিরাপত্তা শুরু হয় কৃষকদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে। আমাদের লক্ষ্য হলো, তাদের দারিদ্র্যের চক্র ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও জ্ঞান সরবরাহ করা। একই সঙ্গে বৈশ্বিক খাদ্য স্থিতিস্থাপকতায় অবদান রাখা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বের কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থায় উদ্ভাবনী নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশন প্রতিবছর টপ অ্যাগ্রি-ফুড পাইওনিয়ার পুরস্কার দেয়। গত জুন মাসে ফাউন্ডেশনের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৯ জন শীর্ষ কৃষি-খাদ্য উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তার মধ্যে আবদুল আউয়াল মিন্টুও মনোনীত হন।
তিনি বাংলাদেশের কৃষি-খাদ্য খাতের মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় কৃষিপণ্যের বাজার তৈরি—এই তিন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন বলে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশন টপ অ্যাগ্রি-ফুড পাইওনিয়ার তালিকায় এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যারা উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব ও কৃষকের জীবিকা উন্নয়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থায় রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনছেন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু লাল তীর সিড লিমিটেড ও লাল তীর লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট (বিডি) লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা। দেশের বিপুল বীজের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ প্রতিষ্ঠান এখন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ বীজ সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত লাল তীর সিড লিমিটেড বর্তমানে দেশের মোট বীজ চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ সরবরাহ করে। লাল তীর সিড ও লাল তীর লাইভ স্টক মাল্টিমোড গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।
২০১১ সালে আবদুল আউয়াল মিন্টু লাল তীর লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড গড়ে তোলেন। এর লক্ষ্য মাংস ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি। এ প্রতিষ্ঠান জেনেটিকভাবে উন্নত জাতের ষাঁড় থেকে মানসম্পন্ন বীর্য উৎপাদন করে টেকসই কৃত্রিম প্রজনন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। কৃষকদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও জ্ঞানবিনিময় কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে পশুপালন উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন ও কৃষি অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর আবদুল আউয়াল মিন্টু খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা উন্নয়নে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা তাঁকে বাংলাদেশের কৃষি খাতে এক দৃষ্টান্তমূলক ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশন বিশ্বব্যাপী খাদ্যের গুণমান, পরিমাণ এবং প্রাপ্যতা উন্নত করার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কৃতিত্ব অর্জনকারী ব্যক্তিদের সম্মাননা জানায়। ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা পরিষদ (প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী এবং বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও নেতারা) পুরস্কার বিজয়ীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেন। এই পুরস্কার এমন ব্যক্তিদের দেওয়া হয়, যাদের কাজ বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ওয়াশিংটন ডিসিতে এ পুরস্কার ঘোষণা করে।
বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি উন্নয়নে কয়েক দশকের উদ্ভাবনী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ ৩৯ জনকে এ বছর পুরস্কার দেওয়া হয়। ফাউন্ডেশনের ৩৯তম বার্ষিকীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মাশাল হুসেইন বলেন, এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা দেশের গণ্ডি ও পেশার সীমানা অতিক্রম করেছে। তারা টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছেন। ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগাচ্ছেন।
রিপোর্টার্স২৪/টিআই/এসসি