খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বার্মাছড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের উদাসীনতার সুযোগে ইউপিডিএফ (প্রসিত) সন্ত্রাসী গ্রুপ ও কাঠ পাচার চক্র রাতের আঁধারে কাঠ সরিয়ে ফেলেছে।
গত ২৯ অক্টোবর লক্ষ্মীছড়ি জোনের বার্মাছড়ি সেনা ক্যাম্পের টহল দল বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠের মজুদ শনাক্ত করে বন বিভাগকে অবহিত করে। তবে ৩-৪ দিন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শনাক্তকৃত কাঠ রাতারাতি অদৃশ্য হয়ে যায়।
পরিস্থিতি জানতে সোমবার ঘটনাস্থলে গেলে বন বিভাগের দল দেখে—সারি সারি কাঠের জায়গায় পড়ে আছে শুধু খালি বাঁশের চালি!
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বন বিভাগের অবহেলা ও রহস্যজনক ভূমিকার কারণেই পাচারকারীরা সুযোগ পেয়ে যায়। এতে অপরাধীরা আরও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠছে এবং পাহাড়ের বন সম্পদ ধ্বংসের পথ সুগম হচ্ছে।
বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গির আলম স্বীকার করেন, “আমাদের কাছে তথ্য পৌঁছায় দেরিতে। প্রস্তুতি নিতে সময় লাগায় কাঠগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।”
তিনি আরও জানান, এলাকা দুর্গম এবং নিরাপত্তা জটিলতার কারণেই বিলম্ব হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বার্মাছড়ি এলাকা ইউপিডিএফ ও কাঠ পাচারকারীদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেনাবাহিনীর নজরদারি জোরদার হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক হাজার ঘনফুট কাঠ পাচার ঠেকানো যায়। তবে এবার বন বিভাগের ধীরগতির কারণে সরকারের বিশাল রাজস্ব বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহল বলছে, বন বিভাগের উদাসীনতা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ সম্ভব হবে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে