রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে প্রতিটি উপজেলা সদরের কমপক্ষে দুটি ফার্মেসিতে এই অ্যান্টিভেনম মজুত রাখতে হবে। সম্প্রতি বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দাখিল করা এক প্রতিবেদনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শনিবার (৮ নভেম্বর) রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট হাইকোর্ট উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিভেনম সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই নির্দেশ স্বাস্থ্যসচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।
জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটের প্রাথমিক শুনানি হয়েছিল ১৮ আগস্ট, যার রিটকারী আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট ইসমাঈল হোসেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান ও তানিম খান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত সাপের কামড়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এই পাঁচ মাসে ৬১০ জন সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন।
২০২২ সালে পরিচালিত জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর চার লাখের বেশি মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন এবং দুঃখজনকভাবে এতে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।
সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, বিষধর সাপের কামড়ের স্বীকৃত চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিভেনম। বাংলাদেশে বর্তমানে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয় না। ভারতে তৈরি অ্যান্টিভেনম অল্প পরিসরে আমদানি করে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাগুলোতে সরবারহ করা হয়ে থাকে।
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা প্রাপ্তি সহজ হবে এবং সর্পদংশনে মৃত্যুর হার কমাতে সহায়ক হতে পারে বলেও আশা করছেন তিনি
রিপোর্টার্স২৪/আরকে