স্টাফ রিপোর্টার: জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ “প্রমাণিত” হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায় ঘোষণার কার্যক্রম শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনাল জানায়, ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়টি ছয়টি অংশে বিভক্ত। বর্তমানে রায়ের শেষ অংশ পাঠ করছেন ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। এ অংশে সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে ও বিপক্ষে উভয়পক্ষের উপস্থাপিত যুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা এসেছে। একই সঙ্গে গণ–অভ্যুত্থানের সময়কার বিভিন্ন অডিও–ভিডিও প্রমাণ, সাক্ষ্য–সাক্ষীদের বয়ান ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়।
এ সময় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনের কিছু অংশও আদালতে পড়ে শোনানো হয়। বেলা সোয়া একটার দিকে গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের অডিও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে কথোপকথনও ছিল বলে আদালতে জানানো হয়।
ঢাকার যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার তথ্য–উপাত্ত ও ভিডিওর বিবরণও আদালতে তুলে ধরা হচ্ছে।
এদিকে পুরো রায় ঘোষণার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর এজলাস থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা এটি প্রথম মামলা, যার রায় আজ ঘোষণা করা হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি