নড়াইল প্রতিনিধি: কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শীত-গরম, রোদ-ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে টানা ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় পাঠকের দোরগোড়ায় পত্রিকা পৌঁছে দিচ্ছেন হকার স্বপন কুণ্ডু। পত্রিকা বিক্রি করেই চলছে তার সংসার।
নড়াইলের হাতিরবাগান মোড় থেকে বৌবাজার, মুচিপোল, রূপগঞ্জ, বাঁধাঘাট, দিবদারতলা, পুরাতন বাস টার্মিনাল, কোর্টচত্বরসহ পুরাতন বাজারের শত শত পাঠকের কাছে পরিচিত মুখ তিনি। প্রতিদিন ভোরে পাঠকরাও অপেক্ষা করেন তার আসার জন্য।
স্বপন কুণ্ডুর পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও বৃদ্ধ শাশুড়িসহ মোট পাঁচ সদস্য। ছেলে বাংলা বিভাগে মাস্টার্স করছেন, আর মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। সংসারের খরচ সামলাতে এখন রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।
স্বপন কুণ্ডু জানান, বিয়ের পরপরই আর্থিক অনটন দেখা দিলে সংসারের হাল ধরতে সিদ্ধান্ত নেন পত্রিকা বিক্রিতে নামার। ১৯৯৪ সালে আঞ্চলিক দৈনিক লোকসমাজ- এর ব্যবস্থাপক বাদলের পরামর্শে তিনি এই পেশা শুরু করেন। তখন থেকেই তিনি পরিচিত হন ‘হকার স্বপন’ নামে।
তিনি বলেন, আগে পত্রিকার চাহিদা ছিল অনেক। তখন বিক্রি ভালো হতো, দ্রব্য মূল্যের দামও কম ছিল। যা আয় হতো, তা দিয়ে মোটামুটি সংসার চলত। এখন ইন্টারনেটে সব খবর পাওয়া যায়, তাই পাঠক কমেছে। আর দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।
আবেগভরে তিনি আরও বলেন, প্রায় ৩১ বছর ধরে নিয়মিতভাবে পাঠকের হাতে সময়মতো পত্রিকা পৌঁছে দিচ্ছি। যেদিন আমার মা মারা যান, সেদিনও পত্রিকা বিলি করেছি। পত্রিকার প্রতি এমন টান হয়ে গেছে যে এখন আর পেশা পরিবর্তন করতে পারছি না।
নিয়মিত পাঠক জাহাঙ্গীর মিনা বলেন, প্রতিদিন সকালে স্বপনদার জন্য বাজারে অপেক্ষা করি। বয়স হয়ে গেছে, মোবাইলে সংবাদ পড়তে পারি না। তাই পত্রিকাই ভরসা।
গ্রাহক রেজাউল ইসলাম বলেন, স্বপনদা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিয়মিত সময়মতো পত্রিকা দেন। তার আচরণও অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে