চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ১৯৭১ সালে যখন তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছিল, সেই কঠিন সময়ে দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় জীবন-পরিবারের ঝুঁকি নিয়েই তিনি এ ভূমিকা পালন করেন।
রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেল ৬টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জাতীয়তাবাদী পরিবারের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস (৭ নভেম্বর) উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্যারিস্টার হেলাল বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কোনো লোভ দেখাননি। “তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বস্থলে ফিরে গিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ও দেশের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন,” বলেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা সংস্থা সার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা পশ্চিমা বিশ্ব গ্রহণ করতে অনেক বছর অপেক্ষা করেছে। কৃষি, শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপনেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
বিএনপি নেতা বলেন, জুলাই আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। “হাসিনা পালিয়ে গেলেও ক্ষমতায় যাননি, বরং দল পুনর্গঠনের কাজ করেছেন। এজন্যই জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন,” দাবি করেন তিনি।
সেমিনারের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আইয়ুবুর রহমান তৌফিক দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান বলেন, “৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা ধানের শীষকে বিজয়ের পথে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।” তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী পক্ষ বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেও অপপ্রচার চালায়। এসব অপপ্রচারের আইনগতভাবে জবাব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মীর হেলালের পরামর্শ সংগঠনের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ী ৯ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয় এবং চাকসুতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, অতীতে জাতীয়তাবাদীদের ইতিহাস জানতে দেওয়া হয়নি। “৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ ও সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে ৫ আগস্টকেও আমি দেশের তৃতীয় স্বাধীনতা বলে মনে করি,” মন্তব্য করেন তিনি। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল আমিন, চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি