রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু তিন দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতির কারণে পরীক্ষার সময়সূচি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে অবিলম্বে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রোববার (৩০ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি থেকে সরে এসে পরীক্ষার স্বার্থে দায়িত্বপালনের অনুরোধ জানায়। মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিকের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বার্ষিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ সময়ে কর্মবিরতি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
গত ২৭ নভেম্বর থেকে তিন দফা দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের নেতাকর্মীরা। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্ভাব্য কর্মবিরতির বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন আগেই মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে।
বেতন গ্রেড-সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড অনুমোদনের পর সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি তারা যৌক্তিক মনে করছে। এ বিষয়ে ১০ নভেম্বর অর্থ বিভাগের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও শিক্ষক নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পে-কমিশনের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের বিষয়টি পে-কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে। দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সহানুভূতিশীল বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বার্ষিক পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সব জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হবে এবং পরীক্ষা ব্যাহত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এসব সতর্কতার পরও সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন সহকারী শিক্ষকরা। প্রাথমিক শিক্ষা দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়, তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বার্ষিক পরীক্ষা (তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন) বর্জনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠিতে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি—
• বেতন স্কেলে দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ
• ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান
• শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি
সরকার দশম গ্রেডে উন্নীতকরণে আপাতত অনীহা জানালেও ১১তম গ্রেড দেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে। শিক্ষকরা অন্তত এই প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন চান।