| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞারও দাবি

ইমরান খানের মুক্তি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের চিঠি

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ০৫, ২০২৫ ইং | ০৭:৩২:৫০:পূর্বাহ্ন  |  ১১৮৩৭৯৩ বার পঠিত
ইমরান খানের মুক্তি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের চিঠি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

স্টাফ রিপোর্টার: যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ৪২ জন সদস্য দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে চিঠি পাঠিয়ে পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানসহ সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তিও চেয়েছেন।পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন এ তথ্য জানিয়েছে।

চিঠিতে হাউস অব রেপ্রেজেন্টেটিভসের ওই সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানজুড়ে দমন-পীড়ন বেড়েছে এবং দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে।

চিঠির উদ্যোগ ও নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য প্রমীলা জয়পাল ও গ্রেগ কাসার। তাদের সঙ্গে আরও ৪০ জন কংগ্রেস সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থি মুসলিম সদস্য ইলহাম ওমর ও রাশিদা তায়েব অন্যতম।

গত বুধবার চিঠিটি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়। এতে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ, কর্মকর্তারা মার্কিন নাগরিক, বিদেশে বসবাসকারী পাকিস্তানি নাগরিক ও তাদের পাকিস্তান নিবাসী আত্মীয়-স্বজনকে হুমকি দিয়েছেন।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সমালোচনার কারণে এই কর্মকর্তারা বিরোধীদের ওপর রোষ উগরে দিয়েছেন। কংগ্রেস সদস্যরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা ‘রাষ্ট্রের ক্ষমতার অস্ত্রীকরণ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কারাবন্দী করে, বিদেশে বসবাসরত নাগরিকদের হুমকি দেয় ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে’, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অসংখ্য মার্কিন নাগরিক ও অভিবাসী পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের পাকিস্তান নিবাসী পরিবারও প্রভাবিত হয়েছেন। কর্মকর্তারা প্রায়শই কোনো কারণ দেখানো ছাড়া আটক, প্রতিশোধমূলক সহিংসতা এবং অনিচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার মতো কৌশল অবলম্বন করেন।

মার্কিন আইনপ্রণেতারা সতর্ক করেছেন, পাকিস্তান কর্তৃত্ববাদী শাসনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিরোধীদলের নেতাদের বিনা অভিযোগে আটক, সাংবাদিকদের ভয় দেখানো বা জোর করে নির্বাসন, সাধারণ নাগরিকদের সামাজিক মাধ্যমে পোস্টের কারণে গ্রেপ্তার সবই নিয়মিত ঘটছে।

চিঠিতে উল্লেখ আছে, নারী, সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিশেষত বেলুচিস্তান প্রদেশে বৈষম্য ও শোষণের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার উদাহরণও দেওয়া হয়েছে, যেমন: ভার্জিনিয়াভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক আহমাদ নুরানি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার ভাইদেরকে অপহরণ করে এক মাসের বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়।

চিঠিতে ২০২৪ সালের নির্বাচনের অনিয়ম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল।

মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা বৈশ্বিক ম্যাগনিটস্কি বিধিনিষেধ, ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি করেছেন। তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তিও দাবি করেছেন।

চিঠির জবাব দিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪