| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

লন্ডনে বাংলাদেশি পাড়ায় পানের পিক পরিষ্কারে খরচ অর্ধকোটি টাকা

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫ ইং | ১২:০৮:২৭:অপরাহ্ন  |  ৯৩৩৭৩৫ বার পঠিত
লন্ডনে বাংলাদেশি পাড়ায় পানের পিক পরিষ্কারে খরচ অর্ধকোটি টাকা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: পানের পিক নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়েছে লন্ডনের ব্রেন্ট কাউন্সিল। ওয়েম্বলি’র মতো শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যত্রতত্র দেখা মিলছে লালচে-খয়েরি রঙের লালামিশ্রিত এই পদার্থটির। বাসিন্দারা পান খেয়ে পানের পিক ফেলছেন নির্বিচারে। ফুটপাত আর রাস্তাগুলোকে যেন চলন্ত ডাস্টবিন মনে করেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন বাংলাদেশি অধ্যুষিত অঞ্চলটির বাসিন্দারা। 

ব্রেন্ট কাউন্সিলের অধীনে বসবাসকারীদের একটি বড় অংশই বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার বংশোদ্ভূত। তাদের মধ্যে পান খাওয়ার বিশেষ প্রচলন রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, পান খেয়ে যেখানে সেখানে পানের পিক ফেলায় তা পরিষ্কার করতে কাউন্সিলের বার্ষিক খরচ ৩০ হাজার পাউন্ডে গিয়ে ঠেকেছে। যা বাংলাদেশি টাকায় অর্থের অঙ্কটা প্রায় অর্ধকোটি (৪৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা)।

উল্লেখ্য, উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের ওয়েম্বলি অঞ্চলেই অবস্থান ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের হোম গ্রাউন্ড ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের রাস্তাঘাটে, ফুটপাতে, এমনকি টেলিফোন বক্স ও ফুলের টবেও পানের পিক ফেলছেন বাসিন্দারা।

কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পানের পিক ফেলায় সৃষ্ট দাগগুলো তোলা বেশ চ্যালেঞ্জিং। অনেক সময় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্লিনিং জেট দিয়েও এগুলো তোলা যায় না।

যত্রতত্র ফেলা পানের পিক জনস্বাস্থ্যের জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমনি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ব্যয়বহুল। আর তাই সমস্যা সমাধানে এবারে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রেন্ট কাউন্সিল। জানিয়েছে, পানের পিক ফেলা রোধ করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।

রাস্তাঘাট ও ফুটপাতে এই ‘নোংরামি’ বন্ধ করতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে কাউন্সিল। এর অংশ হিসেবে কর্তব্যরত আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা রাস্তায় নিয়মিত টহল দেবেন। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের ১০০ পাউন্ড (প্রায় ১৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত জরিমানারও বিধান রেখেছে কাউন্সিল। পানের পিক বেশি ফেলা হয় এমন তিনটি হটস্পটে ইতোমধ্যেই জনসচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন করেছে কর্তৃপক্ষ। 

ব্রেণ্ট কাউন্সিলের পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রিসভার সদস্য ক্রুপা শেঠ দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘আমাদের রাস্তা যারা নষ্ট করে তাদের প্রতি আমরা যে জিরো-টলারেন্স নীতি বজায় রেখেছি তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত; এর মধ্যে সেই ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত যারা পান খেয়ে থুতু ফেলে এবং রাস্তার আসবাবপত্রে দাগ লাগায়।’

তবে পানের পিক ফেলা রোধ করতে ব্রেন্ট কাউন্সিলের নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে যথেষ্ট বলে মনে করেন না ব্রেন্ট লিবারেল ডেমোক্র্যাটসরা। কাউন্সিলের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে তারা বলেছেন, এটি ‘অনেক কম, অনেক দেরিতে’ নেওয়া হলো। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধানে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে চিবানো তামাক নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তামাক হিসেবে পানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, পানের সাথে খাওয়া একটি উপাদান ‘সুপারি’ ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে পানে তামাক থাকুক বা না থাকুক, এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় বলেই জানিয়েছে সংস্থাটি। ব্রেন্ট কাউন্সিল তাই এই অভ্যাসটিকে শুধু ব্যয়বহুলই নয়, বরং ‘গুরুতর স্বাস্থ্য এবং পরিবেশগত ক্ষতি’ হিসেবেও বিবেচনা করছে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪