রাজশাহী প্রতিনিধি: গত অর্থবছরে ১৩২ কোটি টাকা লোকসান করেছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়াহিদা বেগমের অদক্ষতা, অনিয়ম ও একক সিদ্ধান্তে ব্যাংক পরিচালনার কারণেই এই ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পরিচালনা পর্ষদের। এতে ব্যাংকজুড়ে অস্থিরতা, বিভেদ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৫ সালের ৯ মার্চ নিয়োগ পাওয়া ওয়াহিদা বেগম যোগদানের পর চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের পাশ কাটিয়ে নানা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফ্যাসিবাদ–সমর্থিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করে নিজস্ব সিন্ডিকেটও গড়ে তুলেছেন তিনি। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিচালনা পর্ষদ গত ৩ ও ১২ নভেম্বর দুই দফা তাকে কৈফিয়ত তলব করেছে। তবে তিনি চেয়ারম্যানের চিঠির জবাব দেননি।
মেয়াদোত্তীর্ণ আউট সোর্সিং কোম্পানিকে গোপনে সুবিধা দিয়ে নিরাপত্তা প্রহরী ও অফিস সহায়কদের বেতন-ভাতা বাবদ ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা, নতুন দরপত্র আহ্বান না করে বিধি-বহির্ভূতভাবে ব্যয় দেখানোসহ একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এমডির বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া ডাটা সেন্টারের বিল অকারণে আটকে রাখা, মেয়াদোত্তীর্ণ আইনজীবী প্যানেল দিয়ে মামলা পরিচালনা, জুনে প্রাপ্য পদোন্নতি আটকে রাখা, চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে ২০ জনকে বদলি—এসব অভিযোগেও ক্ষুব্ধ পরিচালনা পর্ষদ।
এমডির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে—ইসলামি ব্যাংকিং বাস্তবায়ন আটকে রাখা, পছন্দের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া এবং ব্যাংকের ভেতর নিজস্ব গ্রুপকে শক্তিশালী করা।
অভিযোগ সম্পর্কে ওয়াহিদা বেগম দাবি করেছেন, সব প্রশ্নের জবাব তিনি দিয়েছেন এবং কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, অনিয়ম লক্ষ্য করেই তিনি চিঠি দিয়েছেন; কিছু বিষয়ে এখনও ঘাটতি রয়েছে।
উল্লেখ্য, ওয়াহিদা বেগমের বিরুদ্ধে অগ্রণী ব্যাংকে দায়িত্ব পালনের সময় আর্থিক অনিয়মের মামলা ছিল। আদালত অবমাননার দায়ে তিন মাসের দণ্ডও পান তিনি। সেই তথ্য গোপন রেখেই রাকাবে পদোন্নতি নিয়েছেন বলে অভিযোগ। তার নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে এবং রুল জারি আছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি