লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছি, বিয়ে করেছি। স্বামীকে নিয়ে সুখে রয়েছি। কিন্তু স্বামী, শ্বশুর ও স্বামীর পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অপহরণ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন কলেজপড়ুয়া মেয়ে মেহেরীন নাহার তানিশা।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, কমলনগর উপকূল সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষে পড়ালেখা করছি। এ সুবাদে পার্শ্ববর্তী এলাকার নিজাম উদ্দিন শুভর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু বিষয়টি আমার পরিবার মেনে নেয়নি। নানাভাবে বুঝিয়েও লাভ হয়নি। এরপর পরিবার আমাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে। তাই বাধ্য হয়ে গত ৪ ডিসেম্বর বিকেলে নিজের ইচ্ছায় ঘর ছেড়ে আদালতের মাধ্যমে দুজন বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হই।
কিন্তু এ ঘটনাকে মিথ্যা অপহরণের নাটক সাজিয়ে আমার মা মরিয়ম বেগম স্বামী নিজাম উদ্দিন শুভসহ শ্বশুরবাড়ির কয়েকজনকে আসামি করে কমলনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আমার স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তারা ভয়ে ও আতঙ্কে রয়েছেন। আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। আমি নিজেই স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছি।
বর্তমানে স্বামীকে নিয়ে সুখে রয়েছি। পাশাপাশি মিথ্যা ও সাজানো মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান কলেজপড়ুয়া মেয়ে মেহেরীন নাহার তানিশা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বামী নিজাম উদ্দিন শুভ। তিনিও দাবি করেন, তানিশাকে কোনো অপহরণ করা হয়নি। তানিশা স্বেচ্ছায় তাকে বিয়ে করেছেন। তাদের হয়রানি না করার অনুরোধ জানান শুভ।
উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার তাহের আহমদ ও মরিয়ম বেগম দম্পতির কলেজপড়ুয়া মেয়ে মেহেরীন নাহার তানিশা পার্শ্ববর্তী এলাকার হাবিব উল্লাহর ছেলে নিজাম উদ্দিন শুভর সঙ্গে পালিয়ে যান। পরে ঢাকায় গিয়ে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। এরপর কমলনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তানিশার মা মরিয়ম বেগম। পরে ১৪ ডিসেম্বর অপহরণ ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিজাম উদ্দিন শুভসহ কয়েকজনকে আসামি করে একই থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন