রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের লড়াকু যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন হাদি। টানা ছয় দিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন এই সাহসী তরুণ নেতা। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু রাজনীতির মাঠ নয়, পুরো দেশ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন স্তব্ধ হয়ে গেছে।
হাদির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই দেশের শোবিজ অঙ্গনে নেমে আসে গভীর শোক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট, কবিতা, প্রশ্ন আর প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন জনপ্রিয় তারকারা।
অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা ওসমান হাদির একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, শহীদ ওসমান বিন হাদী আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে থাকবেন।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদ হাদি ও তার শিশুপুত্রের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।
অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক হাদির মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত হয়ে লেখেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। নামটা মনে রেখো শহীদ, বীর শরীফ ওসমান হাদি।
পরবর্তী একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি বাকস্বাধীনতা, ভিন্নমত ও রাষ্ট্রীয় সহনশীলতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।
সে কোনো এমপি-মন্ত্রী ছিল না, কারও হক আত্মসাৎ করেনি, সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায় করেনি। তবুও সামান্য কথার দায়ে একটা জীবন এভাবে শেষ হয়ে যেতে পারে? আজ হাদি, কাল কে?
পোস্টের শেষে তিনি লেখেন শরীফ ওসমান হাদি (১৯৯৩–ইনফিনিটি)।
মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল হাদির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লেখেন, এটা সত্যিই খুব কষ্টের এবং কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন এবং তার ছোট্ট শিশুসহ পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি হওয়া উচিত মানবিক ও দায়িত্বশীল এভাবে প্রাণ ঝরে যাওয়া কখনোই স্বাভাবিক হতে পারে না।
জনপ্রিয় অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান লেখেন, ওসমান হাদীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অস্থিরতা দূর হোক। দেশে শান্তি ফিরে আসুক।
তরুণ অভিনেতা আরশ খান ক্ষমতা ও মানুষের জীবনের মূল্য নিয়ে লেখেন, একটা একটা করে নিভে যাওয়া বাতিগুলো যে যাই পরিচয় দাও, সবাই এই দেশের অংশ ছিল। একদিন ক্ষমতা জিতবে, কিন্তু তখন হয়তো পৃথিবীটাই থেমে যাবে।”
নির্মাতা আশফাক নিপুন শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখেন, ওসমান হাদি, শান্তিতে ঘুমান। তারা আপনাকে হত্যা করতে পারে, কিন্তু আপনার শুরু করা লড়াই থামাতে পারবে না। খুনিদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এদিকে, হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মিছিল ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারকারা। বিশেষ করে গণমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকে।
আশফাক নিপুন বলেন, শহীদ হাদির অকালমৃত্যুর প্রতিবাদের ভাষা ভাঙচুর ও নৈরাজ্য হতে পারে না। এই মুহূর্তে আমাদের এক থাকা প্রয়োজন।”
সংবাদমাধ্যমে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পিয়া জান্নাতুল লেখেন, আগুন ভবন ধ্বংস করতে পারে, সাহস নয়। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
রুকাইয়া জাহান চমক আক্ষেপ করে লেখেন,কাল বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচনায় আসবে অগ্নিসংযোগ, কিন্তু আসার কথা ছিল হাদির কথা, তার বীরত্বের কথা, খুনের বিচারের কথা।
শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু তাই শুধু একজন মানুষের প্রস্থান নয়। এটি হয়ে উঠেছে একটি প্রজন্মের প্রশ্ন, প্রতিবাদ আর অসহায়তার প্রতিচ্ছবি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম