রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এতে সারাদেশে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আবহ তৈরি হয়েছে। সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনগণ মহান আল্লাহর কাছে শহিদ শরিফ ওসমান হাদির রূহের মাগফিরাত কামনা করছে। একই সঙ্গে তার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার বিষয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে।’
জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, হাদির মৃত্যুর পর দেশের ছাত্র-জনতার মধ্যে যে আবেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তা ন্যায্য ও বোধগম্য। তবে এই ক্ষোভকে পুঁজি করে কেউ যদি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালায়, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে চলমান আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং জনগণের কণ্ঠস্বর প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। গণমাধ্যমে হামলা মানে গণতান্ত্রিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।’
তিনি আরও বলেন, যেকোনো ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের এই সংকটময় সময়ে সংযম, দায়িত্বশীলতা ও জাতীয় ঐক্যই একমাত্র পথ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব।’
তিনি সকল দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা ও নাগরিকদের কোনো উস্কানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য, সচেতনতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার আহ্বান জানান।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা