আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তোশাখানা–২ মামলায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
শনিবার ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)-এর একটি বিশেষ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। বিশেষ বিচারক সেন্ট্রাল শাহরুখ আরজুমান্দ আদিয়ালা কারাগারে টানা ৮০টি শুনানি শেষে রায় প্রদান করেন।
রায়ে বলা হয়, পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৪ ও ৪০৯ ধারায় ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন (পিসিএ)-এর ৫ ধারায় অতিরিক্ত সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলাটি নামমাত্র মূল্যে একটি মূল্যবান ‘বুলগারি’ গয়না সেট আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে দায়ের করা হয়।
তোশাখানা–২ মামলা কী
এফআইএর নথি অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজের কাছ থেকে প্রাপ্ত বুলগারি গয়না সেটটির মূল্য ৭১ মিলিয়ন পাকিস্তানি রূপিরও বেশি। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তরা গয়না সেটটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাত্র ৫.৯ মিলিয়ন রূপিতে অধিগ্রহণ করেন। সেটটিতে একটি নেকলেস, ব্রেসলেট, আংটি ও কানের দুল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তদন্তে বলা হয়, উপহারটি নিয়ম অনুযায়ী তোশাখানায় জমা দেওয়া হয়নি এবং এর সঠিক মূল্যায়নও করা হয়নি। প্রথমে বেসরকারি মূল্যনির্ধারক সোহাইব আব্বাসি এবং পরে শুল্ক কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করেন। এ সময় গয়নার মূল্য কম দেখাতে তৎকালীন মুখ্য সচিব ইনাম শাহ-এর প্রভাব খাটানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে।
মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া
তোশাখানা–২ মামলায় ইমরান খান ও বুশরা বিবির বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই অভিযোগ আনা হয়। সেদিন ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (ন্যাব) আদিয়ালা কারাগার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা ৩৭ দিন ন্যাবের হেফাজতে ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০ আগস্ট ন্যাব মামলাটি দায়রা আদালতে রেফারেন্স আকারে দাখিল করে। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়, যার প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয় আদিয়ালা কারাগারে।
বুশরা বিবি ২৩ অক্টোবর ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করলে পরদিনই তিনি মুক্তি পান। ইমরান খান জামিন পান ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর। পরে ১২ ডিসেম্বর উভয়ের বিরুদ্ধেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।
প্রায় এক বছর ধরে চলা বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষ ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে এবং ২০ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন করে। উল্লেখযোগ্য সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার (অব.) মুহাম্মদ আহমদ, বেসরকারি মূল্যনির্ধারক সোহাইব আব্বাসি এবং ইমরান খানের সাবেক মুখ্য সচিব ইনামুল্লাহ।সূত্র: জিও নিউজ
রিপোর্টার্স২৪/এসসি