| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আতঙ্কে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিকর্মীরা

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫ ইং | ০২:১০:০২:পূর্বাহ্ন  |  ১০৯০৭৯০ বার পঠিত
আতঙ্কে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিকর্মীরা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয়ে ধারাবাহিক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর আতঙ্কে রয়েছে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিকর্মীরা। ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে শনাক্ত বা আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয় এবং ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হামলার কারণে শুক্রবার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার, দুটি পত্রিকাই প্রকাশিত হয়নি। প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এই প্রথম ছুটির দিন ছাড়া প্রকাশনা বন্ধ রাখতে হয় তাদের। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল উভয় পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ।

ডেইলি স্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার সময় তাদের ২৮ জন সাংবাদিক ও কর্মী ছাদে আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন।

গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার তদন্ত বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, এখনো মামলা না হলেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

শনিবার সকালে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় মান্না বলেন, ঘোষণা দিয়েই হামলা হয়েছে। এটি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন আমরা পাশে না দাঁড়ালে ভবিষ্যতে এর পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।

হামলার পর থেকে ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। এদিকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার পর অন্যান্য গণমাধ্যমেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে কালবেলা ও সমকাল কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, এটি শুধু দুটি গণমাধ্যমের ওপর হামলা নয়, বরং গোটা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

অন্যদিকে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে শনিবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সংগঠনটি। উদীচীর সাধারণ সম্পাদক (একাংশ) অমিত রঞ্জন দে অভিযোগ করেন, পূর্ব হুমকি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, এটি মুক্তচিন্তা, সংস্কৃতি ও বাকস্বাধীনতার ওপর পরিকল্পিত আঘাত।

ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে হামলায় শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি, কম্পিউটার, বাদ্যযন্ত্র ও আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় মামলা করা হলেও এখনো কাউকে আটক করা যায়নি।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪