ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: রোববার (২১ ডিসেম্বর) সুদানের উত্তর দারফুর রাজ্যের একটি ব্যস্ত বাজারে ড্রোন হামলায় ১০ জন নিহত হয়েছে। তবে এ হামলার জন্য কে দায়ি তা জানা যায়নি।
সুদানজুড়ে সাহায্য সমন্বয়কারী শত শত স্বেচ্ছাসেবক দলের মধ্যে একটি ‘নর্থ দারফুর ইমার্জেন্সি রুমস কাউন্সিল’ শনিবার আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত শহর মালহার আল-হারা বাজারে ড্রোন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে কাউন্সিল কারা এই হামলা চালিয়েছে, তা সনাক্ত করতে পারেনি।
দেশটির অন্যান্য স্থানেও লড়াই তীব্র হয়েছে। এ ঘটনায় দক্ষিণের অবরুদ্ধ দুর্ভিক্ষপীড়িত শহর কাদুগলি থেকে সাহায্য কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এই সংঘর্ষে। প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সুদানে বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষুধা সংকট দেখা দিয়েছে। সুদানের সেনাবাহিনী বা আরএসএফের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
যুদ্ধের বর্তমান কেন্দ্রবিন্দু এখন দক্ষিণ কর্ডোফান এবং রাজ্যের রাজধানী কাদুগলি এবং সেখানে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেখানে গত সপ্তাহে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত শহর থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় একটি ড্রোন হামলায় আটজন নিহত হন।
কাদুগলিতে কর্মরত একটি মানবিক সংস্থার একটি সূত্র রোববার এএফপিকে জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে মানবিক গোষ্ঠীগুলো তাদের সমস্ত কর্মীকে সরিয়ে নিয়েছে। জাতিসংঘের কাদুগলি থেকে তাদের সরবরাহ কেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের পরে এই স্থানান্তর শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি জানিয়েছে, কর্মীরা কোথায় গেছেন তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাদুগলি এবং নিকটবর্তী ডিলিং শহর আধাসামরিক বাহিনী অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গত সপ্তাহে আরএসএফ কাদুগলি এবং ডিলিং-এর মধ্যবর্তী সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা এলাকার নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে।
অক্টোবরে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর এল-ফাশার থেকে সেনাবাহিনীকে বিতাড়িত করার পর, আরএসএফ তাদের মনোযোগ সম্পদ সমৃদ্ধ কর্দোফানের দিকে সরিয়ে নিয়েছে। দারফুরের মতো, কর্দোফানে সুদানের নয় এমন আরব জাতিগত গোষ্ঠীর আবাসস্থল।
এল-ফাশারের পতনের পর সংঘটিত বেশিরভাগ সহিংসতা জাতিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। কর্দোফানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং জাতিসংঘ গত মাসে কাদুগলিতে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মতে, অক্টোবরের শেষ থেকে ৫০ হাজারের বেশি বেসামরিক লোক এই অঞ্চল ছেড়ে পালিয়েছে। এই সংঘাত সুদানকে কার্যকরভাবে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে। সেনাবাহিনী দেশটির উত্তর, পূর্ব এবং কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করছে অন্যদিকে আরএসএফ দারফুরের পাঁচটি রাজ্যের রাজধানী এবং তার মিত্রদের সঙ্গে দক্ষিণের কিছু অংশে আধিপত্য বিস্তার করছে।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) রবিবার জানিয়েছে, দারফুরের চারটি রাজ্যের মধ্যে তিনটিতে হাম ছড়িয়ে পড়ছে এবং পশ্চিম সুদানের বেশিরভাগ অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রতিরোধযোগ্য হামের প্রাদুর্ভাব মধ্য, দক্ষিণ এবং পশ্চিম দারফুরে ছড়িয়ে পড়ছে।’
তারা আরো বলেছে, ‘২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এমএসএফ দলগুলো ১ হাজার ৩০০-এর বেশি রোগীর চিকিৎসা করেছে। কর্তৃপক্ষ এবং মূল অংশীদারদের টিকা পরিবহন, অনুমোদন এবং সমন্বয়ে বিলম্বের কারণে শিশুরা অরক্ষিত হয়ে পড়ছে।’
সূত্র : নিউ আবর নিউজ
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম