| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইয়াবাকাণ্ডে ৯ পুলিশ বরখাস্ত

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ ইং | ১৮:৪১:৩৩:অপরাহ্ন  |  58302 বার পঠিত
ইয়াবাকাণ্ডে ৯ পুলিশ বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম: নগরের প্রবেশমুখ বাকলিয়া থানার নতুন ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশির সময় এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া এবং উদ্ধার করা মাদক আত্মসাতের অভিযোগে নয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

সোমবার (৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন— বাকলিয়া থানার ওসি (তদন্ত) তানভীর আহমেদ,বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার, এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন (বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় কর্মরত), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইফুল আলম, মো. জিয়াউর রহমান, মো. সাদ্দাম হোসেন, এনামুল হক, কনস্টেবল মো. রাশেদুল হাসান ভূঞা ও নারী কনস্টেবল উম্মে হাবিবা।

এদিকে পুলিশ সূত্র জানায়, মাদকদ্রব্য আত্মসাৎ, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং বৈধ আদেশ অমান্য করার অভিযোগে পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি) বিধি-৮৮০ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ চেকপোস্টে মাদক কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ততা উঠে আসায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন সিএমপি কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কমিশনার ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বরখাস্তের আদেশ দেন। বরখাস্তদের মধ্যে নয়জনই বাকলিয়া থানার সদস্য। 

ওয়াহিদুল ইসলাম আরও বলেন, বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীরের বরখাস্তের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) আমিনুর রশিদ বলেন, পুলিশ চেকপোস্টে মাদক কেলেঙ্কারির ঘটনায় একটি প্রতিবেদন সিএমপি কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কমিশনার সোমবার (আজ) বাকলিয়া থানার আটজন পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নগরের শাহ আমানত সেতু (নতুন ব্রিজ) এলাকায় বাকলিয়া থানার অংশে ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। বাসটি ওই দিন রাত ১০টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসে।

তল্লাশির সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ইমতিয়াজ হোসেন নামে এক যাত্রীকে আটক করে পুলিশ বক্সে নেওয়া হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে নয়টি বক্সে মোট ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা আত্মসাৎ করেন। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ইয়াবার চালান বহনে সম্মত হন।

কোনো ধরনের ছুটি না নিয়ে তিনি ইয়াবাভর্তি লাগেজসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। নতুনব্রিজ এলাকায় তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয় এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বরখাস্তকালীন সময়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করে নিয়মিত হাজিরা ও রোলকল দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, মাদক কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ততা পাওয়া পুলিশ কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে কক্সবাজার পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি পুলিশ লাইনে রয়েছে। এখনো ইমতিয়াজকে বরখাস্ত করা হয়নি।

গত ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ তল্লাশি চৌকিতে ইয়াবাসহ এক পুলিশ সদস্যকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা করেন। একই সঙ্গে নগর পুলিশের উপকমিশনারকে (দক্ষিণ) সোমবার (৫ জানুয়ারির) মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪