সিনিয়র রিপোর্টার: রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভোক্তাদের পকেট লুট করছে এমন অভিযোগ তুলে সরকারের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, টানা কয়েক দিন ধরে এলপিজির বাজারে লুটপাট চললেও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার কার্যত চোখ-কান বন্ধ করে রয়েছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সরকারের ভেতরেই এই সিন্ডিকেটের মূল পৃষ্ঠপোষকরা সক্রিয়।
নেতৃদ্বয় অভিযোগ করেন, সরকারি দামের দ্বিগুণে বিক্রি, তবু নীরব প্রশাসন।
এলপিজি সিন্ডিকেট আকস্মিক ও অযৌক্তিকভাবে সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি করছে। অথচ মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট দমনে সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
তারা বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করা হলেও সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। ভোক্তাদের দুর্ভোগ নিয়ে প্রশাসনের এই নীরবতা নজিরবিহীন ব্যর্থতা, যা কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এলপিজি এখন দেশের লাখো পরিবারের রান্নাঘরের একমাত্র জ্বালানি। শহর থেকে মফস্বল সবখানেই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। এমনকি পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ থাকা এলাকাতেও সংকটের কারণে সিলিন্ডার গ্যাসই ভরসা হয়ে উঠেছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, এই বাস্তবতায় এলপিজির বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু অনৈতিক নয়, সরাসরি জনজীবনের ওপর আঘাত।
বাংলাদেশ ন্যাপের শীর্ষ নেতারা বলেন, এলপিজির এই সংকট হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি; এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল তদারকির ফল। সরকার নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করলেও সরবরাহ, মজুত ও খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে।
তারা বলেন, শীত মৌসুমে এলপিজির চাহিদা বাড়বে এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। বাস্তবতা জানা থাকার পরও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না করায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং মূল্যবৃদ্ধির পথ সুগম হয়েছে।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, এলপিজি কোনো বিলাসী পণ্য নয়; এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানি। এর দাম হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানিকে পুঁজি করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে এলপিজি সিন্ডিকেট ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগণের পকেট কাটছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে এলপিজির মজুত ও সরবরাহসংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়, যাতে গুজব ও কারসাজির সুযোগ কমে আসে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংস্থার যৌথ অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, ঘোষিত মূল্য কার্যকর করতে হলে কাগুজে সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি