| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানে বিক্ষোভের ১০ দিনে নিহত অন্তত ৩৬

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ ইং | ১০:৩৪:৫৫:পূর্বাহ্ন  |  96175 বার পঠিত
ইরানে বিক্ষোভের ১০ দিনে নিহত অন্তত ৩৬

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ গত ১০ দিনে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের নিচে চারজন কিশোর রয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ইরানভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হারানা) মঙ্গলবার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়। তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত নিহত বা আহতের সংখ্যা নিয়ে কোনো দাপ্তরিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

হারানার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান বিক্ষোভ ইরানের মোট ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৭টিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রদেশের অন্তত ৯২টি শহরের ২৮৫টি স্থানে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি ও মিছিল চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে হারানা।

মূলত ইরানের জাতীয় মুদ্রা ইরানি রিয়ালের ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন ছোট-বড় শহরে দোকানমালিকরা ধর্মঘটের ডাক দেন এবং বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।

পরদিন ২৯ ডিসেম্বর ব্যবসায়ীদের এই আন্দোলনে যোগ দেন সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কর্মজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকেই বিক্ষোভ ক্রমেই বিস্তৃত আকার ধারণ করে।

এর মধ্যেই গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরানে ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার যদি বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো সময় ইরানে সামরিক অভিযান’ চালাতে পারে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে ইরান সরকারও কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেয়। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও স্পষ্ট করে বলেন, ইরান শত্রুদের কাছে কখনো নতিস্বীকার করবে না।

এদিকে ইরানের বিচারমন্ত্রী গোলাম হোসেনইন মোহসেনি গত ৫ জানুয়ারি সোমবার এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, সরকার জনগণের সমস্যা ও অভিযোগ শুনতে আগ্রহী, তবে আন্দোলনের নামে সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। তিনি জনগণকে দাঙ্গাবাজদের দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অসন্তোষ এবং আন্তর্জাতিক চাপ এই তিনের সমন্বয় ইরানকে নতুন করে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪