গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদত্যাগের ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে জেলায় অন্তত তিন শতাধিক নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দল ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন।
জেলায় মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়া উপজেলায় পদত্যাগের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এরপর রয়েছে টুঙ্গিপাড়া ও কাশিয়ানী উপজেলা।
গতকাল (৬ জানুয়ারি) মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর, ভাবড়াশুড় ও বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০ নেতা পদত্যাগ করেন। এর আগে ৪ জানুয়ারি পৃথক সংবাদ সম্মেলনে টুঙ্গিপাড়া ও মুকসুদপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৪ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এছাড়া ডিসেম্বর মাসেও ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতারা দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
পদত্যাগকারীরা জানান, তারা স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ-পদবি থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও দলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকবে না। কেউ কেউ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়েও পদত্যাগ করছেন। অনেকে জানিয়েছেন, পূর্বে যে পদগুলো পেয়েছিলেন, তা এখন জানতে পেরে পদত্যাগ করেছেন।
একাধিক সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর জেলায় সংঘটিত কয়েকটি ঘটনার কারণে বিভিন্ন থানায় অন্তত দুই ডজন মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে এবং অন্তত পাঁচ শতাধিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর ফলে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা আতঙ্কে পদত্যাগ করছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর আচরণের কারণে সাধারণ নেতারা দল থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কেউ কেউ মনে করছেন ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করবে—এর প্রভাবও রয়েছে। তবে অভিযোগহীন নেতাদের আমরা সাদরে গ্রহণ করবো।