| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরান, নিহতের সংখ্যা ১৯২

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১১, ২০২৬ ইং | ২০:৪২:১৩:অপরাহ্ন  |  41296 বার পঠিত
সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরান, নিহতের সংখ্যা ১৯২
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ইতিহাসের অন্যতম বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান দেশটিতে ‘ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের’ আশঙ্কা তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস রোববার (১১ জানুয়ারি) জানায়, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার তথ্য তারা নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি বলছে, গত ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

আন্দোলনের বিস্তার

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিকে ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চলমান আন্দোলনটি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির (৮৬) শাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

ইন্টারনেট বন্ধ, তবুও ছড়াচ্ছে ভিডিও

ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও তেহরানসহ বিভিন্ন শহর থেকে বিক্ষোভের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এএফপি যাচাইকৃত একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, শনিবার রাতে তেহরান ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে নতুন করে বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও কোথাও গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। যাচাই করা সম্ভব হয়নি—এমন কিছু ভিডিওতে স্বজনদের তেহরানের একটি মর্গে নিহতদের শনাক্ত করতে ভিড় করতে দেখা গেছে।

‘ব্যাপক হত্যাকাণ্ড’ চলছে: মানবাধিকার সংস্থা

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান (সিএইচআরআই) জানিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানজুড়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে,ইরানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চলছে। আরও প্রাণহানি ঠেকাতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।”

সিএইচআরআই আরও জানায়, হাসপাতালগুলো আহত বিক্ষোভকারীতে ভরে গেছে, রক্তের মজুত কমে যাচ্ছে এবং অনেক বিক্ষোভকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে চোখে গুলি করা হয়েছে।

তেহরান প্রায় অচল

এএফপির এক সাংবাদিক জানান, বিক্ষোভের কারণে তেহরান কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মাংসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অনেক দোকান বন্ধ রয়েছে, আর যেগুলো খোলা থাকে সেগুলো বিকেল ৪টা বা ৫টার মধ্যেই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। শহরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

সরকারের অবস্থান

ইরানের পুলিশ প্রধান আহমদ রেজা রাদান শনিবার রাতে বিক্ষোভে জড়িতদের গ্রেপ্তারের কথা জানান, তবে সংখ্যা প্রকাশ করেননি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, দাঙ্গাবাজদের সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেওয়া যাবে না এবং জনগণের বিশ্বাস করা উচিত—সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

রেজা পাহলভির ডাক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বিদেশে অবস্থানরত সাবেক শাহ পরিবারের উত্তরসূরি রেজা পাহলভি রোববার নতুন কর্মসূচির ডাক দিয়ে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, রাস্তা ছেড়ে যাবেন না। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। খুব শিগগিরই আপনাদের পাশে থাকব।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ সহিংসতা চালালে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ইরানি জনগণের ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’-এর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালালে ইরান পাল্টা জবাব দেবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে তিনি বলেন,মার্কিন হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড এবং মার্কিন সামরিক ও নৌপরিবহন কেন্দ্রগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪