স্টাফ রিপোর্টার: টেকসই জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে বাংলাদেশের কৃষি খাতে সৌর সেচের বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সরকারকে বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বিদ্যুতের বহুমুখী ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)–এর কৃষিকৌশল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে সৌর সেচের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব মতামত তুলে ধরা হয়। সেমিনারের লক্ষ্য ছিল কৃষি খাতে টেকসই জ্বালানি ব্যবহারের প্রসার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং ডিজেলনির্ভর সেচ ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের করণীয় নির্ধারণ।
কৃষিকৌশল বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী মো. বেলাল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় এবং চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (স্রেডা)–এর সদস্য (যুগ্ম সচিব) ড. আশরাফুল আলম, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)–এর প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, ইডকলের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর মোর্শেদসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (অ্যাকাডেমিক ও আন্তর্জাতিক) প্রকৌশলী খান মনজুর মোরশেদ বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে সোলার প্যানেল আমদানিতে শুল্কমুক্ত বা শূন্য ট্যাক্স সুবিধা দেওয়া জরুরি। এতে আমদানি ব্যয় কমবে এবং ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়বে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, সৌর সেচ ব্যবস্থা কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের বিকল্প হিসেবে সৌর সেচের বিস্তার সময়ের দাবি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি