বেনাপোল প্রতিনিধি: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, পহেলা ফাল্গুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালির ফুলচাষিরা। তারা বলছেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলে ফুলের বাজার চাঙা হবে, আর সহিংসতা হলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরপরই বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস থাকায় ফুলের চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছেন চাষিরা। নির্বাচনী পথসভা, বিজয় মিছিল ও উৎসবকে ঘিরে গাঁদা, রজনীগন্ধা ও গোলাপের চাহিদা সাধারণত বেশি থাকে। তবে নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং রমজানের শুরুতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পড়ায় বাজার নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।
গদখালী ও আশপাশের এলাকায় মাঠজুড়ে এখন গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরাসহ নানা রঙের ফুল ফুটেছে। দেশের অন্যতম বড় ফুলের মোকাম গদখালীতে বছরে ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকার ফুল কেনাবেচা হয়। এখানকার ফুল দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে।
চাষিরা জানান, বর্তমানে গোলাপ ও রজনীগন্ধার দাম তুলনামূলক কম থাকলেও অন্যান্য ফুলের দাম বাড়ছে। গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ৫–৭ টাকা, রজনীগন্ধা ৮–১৫ টাকা এবং গাঁদা প্রতি হাজার ১০০ টাকায়। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী দিনে দাম আরও বাড়তে পারে।
গদখালী ফুল চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠে পর্যাপ্ত ফুল রয়েছে। তবে নির্বাচন ও রমজান সামনে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। তবুও চাষিরা আশা করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে তারা ভালো দাম পাবেন।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, যশোর অঞ্চলে প্রায় সাত হাজার চাষি ৬৪১ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করেন। নির্বাচন ও উৎসব নির্বিঘ্ন হলে এবারও ফুলচাষিরা লাভবান হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি