রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: আজ ২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস পালিত হচ্ছে। ৬৯’এর গণঅভ্যূত্থানের মহানায়ক আসাদুজ্জামান আসাদের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৬৯ সালে ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সমাবেশ থেকে ১১ দফা দাবিতে এবং পুলিশ-ইপিআর বাহিনীর ছাত্র-জনতা ওপর বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি পূর্ণ দিবস হরতাল কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। এদিন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ডাকা হয়। গর্ভণর মোনায়েম খাঁন ওই দিন ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন। ১১ দফা দাবিতে প্রায় ১০ হাজার ছাত্রে বিশাল মিছিল ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। আসাদসহ কিছু ছাত্র ছত্রভঙ্গ মিছিলটি আবার সংগঠিত করে ঢাকা হলের (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল) পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময়ই পুলিশের গুলিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (শহীদ আসাদ) নিহত হন। সেই দিনটিকে অনেক ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষক জাতীয় ঐতিহাসিক আন্দোলনের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন—আসাদের রক্ত উনসত্তর (১৯৬৯) গণ-অভ্যুত্থানের আগুন জ্বালিয়েছিল, যা পরবর্তীতে আইয়ুব খানের শাসন পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন) গ্রুপ এর নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল শাখার সভাপতি আসাদের মৃত্যুতে আন্দোলনের অগ্নিশিখা জ্বলে উঠে। শহীদ আসাদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে পরদিন রাজধানী ঢাকায় বের হয় স্মরণকালের বৃহত্তর শোক মিছিল বিক্ষোভের নগরীতে পরিণত হয় প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকা। আসাদের রক্ত আর বিক্ষুদ্ধ জনতা সেই সময়ই ছুটে যান মোহাম্মদপুর তৎকালীন আইয়ূব গেটের সামনে এবং প্রতিবাদের ক্ষুদ্ধ প্রতীক হিসাবে আইয়ূব গেটের নামফলক গুড়িয়ে দিয়ে রক্ত দিয়েই লেখেন আসাদ গেট। সেই থেকে মোহাম্মদপুর আসাদ গেটের জন্ম।
শহীদ আসাদের রক্তমাখা শার্ট স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য এক প্রভাবশালী প্রতীক হয়ে ওঠে এবং গণ-আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়। ওই আন্দোলনে জাতির বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে এবং তা দ্রুত ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়; ফলশ্রুতিতে ১৯৬৯ সালের মার্চের শেষভাগে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন শেষে পৌঁছায়।
দিবসটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহীদ আসাদ ও অন্যান্য শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেছেন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদ আসাদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী ও মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশের জন্য নিজের দায়িত্ব পালন করতে এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে যুগে যুগে উদ্বুদ্ধ করবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও শহীদ আসাদের আত্মত্যাগকে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন, যে গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেটির পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা অটল।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে শহীদ আসাদ স্মৃতিসৌধে ফুলদানী অর্পণসহ শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। দিবসজুড়ে থাকবে আলোচনা সভা, স্মরণসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি আসাদের জন্মস্থান নরসিংদীর শিবপুরসহ দেশের নানা স্থানে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।
শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ দেশের তরুণ প্রজন্মকে গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান হিসেবে অম্লান থেকে যাবে—এমনটাই সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও শৈক্ষিক মহলে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি