| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানে আগ্রাসন: আলী খোমেনির শাহাদাত, নীরব মুসলিম বিশ্ব

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৮, ২০২৬ ইং | ১৭:০০:১৯:অপরাহ্ন  |  ৪৪৮৯২২ বার পঠিত
ইরানে আগ্রাসন: আলী খোমেনির শাহাদাত, নীরব মুসলিম বিশ্ব
ছবির ক্যাপশন: এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলছে সংঘর্ষ, সংঘাত, হামলা-পাল্টা হামলা; যার জন্য মূলত দায়ী হচ্ছে ‘মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সার’ নামে পরিচিত ইসরাইল ও তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আমেরিকা। ইরানের সার্বভৌম ভূখণ্ডে চলমান ইঙ্গ-মার্কিন হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি বলা হচ্ছে। কোনো আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা করছে না দেশটি।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের ছায়াযুদ্ধ নতুন নয়। কিন্তু গত কয়েক মাসে উত্তেজনা এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা অস্বীকার করা যায় না। গাজা, লেবানন, সিরিয়া—প্রতিটি ফ্রন্টে আগুন জ্বলছে। আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদসহ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সব নীতিমালাকে পদদলিত করে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসী শক্তি মুসলিম রাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা করে এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনিকে নিজ বাসভবনে শাহাদাতের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, মজলুমের কণ্ঠস্বর আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীকে হারাল বিশ্ব। তাঁর প্রয়াণে আজ গোটা বিশ্বের ইসলামী আন্দোলন ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইঙ্গ-মার্কিন অশুভ শক্তির ইরান আক্রমণের পেছনে বড় কারণ হচ্ছে ইরানের প্রথম সারির নেতাদের হত্যা করে নেতৃত্বশূন্য করা। অর্থাৎ তাদের যে হিসাব, সেটা হলো—ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে তারা কাজ শুরু করবে এবং বড় একটি পরিবর্তন নিয়ে আসবে, ইরানের ক্ষমতার রূপ পরিবর্তনের চেষ্টা করবে। এটাই হচ্ছে মূলত তাদের হিসাব-নিকাশ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাববার সময় এসেছে—তাদের এই হিসাব আদৌ সঠিক হলো কি না? ইরানের জনগণই বা কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তাও লক্ষ্য করতে হবে। এই হামলাকে কেন্দ্র করে ইরানের ভেতরে কোনো বিভাজন, খণ্ডযুদ্ধ বা গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় কি না, সেটাও লক্ষ্য রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো ল্যান্ডফোর্স ব্যবহার করেনি। যেকোনো ক্ষমতার পটপরিবর্তন করতে হলে, যেমনটি আমরা ইরাকে দেখেছি, কুয়েতে দেখেছি, এমনকি আফগানিস্তানেও দেখেছি—সব জায়গাতেই কিন্তু আমেরিকার ট্রুপস প্রয়োজন ছিল। এখানে এখন পর্যন্ত সেটার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। আমরা এখনো সেই কাঠামো দেখছি না যে, তারা ল্যান্ড ট্রুপস নামাবে। তার মানে হচ্ছে, তাদের ধারণা—ইরানের জনগণই তাদের পক্ষে চলে আসবে এবং পুরো একটি অংশ ইসলামিক রিপাবলিককে প্রত্যাখ্যান করবে। সেটা দেখতে আমাদের আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে। এখন পর্যন্ত সে ধরনের কিছু লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ইরানের জনগণ আবার রাস্তায় নেমেছে।

ইরানে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসী শক্তির সরাসরি সামরিক হামলার ফলে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা শুধু দুই রাষ্ট্রের দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের ভঙ্গুর অবস্থান, কূটনৈতিক দুর্বলতা এবং নীতিহীনতার নগ্ন প্রকাশ।

যখন গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন মাসের পর মাস ধরে চলছে, যখন সিরিয়ায় নাগরিকদের জীবন ছিন্নভিন্ন হয়েছে এবং যখন আজ ইরানের বিভিন্ন শহরে বোমা পড়ে মানুষ নিহত হচ্ছে—তখন মুসলিম দেশগুলোর অধিকাংশ সরকার কেবল মৌনদর্শক কিংবা দ্বিমুখী বিবৃতির আশ্রয় নিয়েছে। এই নিষ্ক্রিয়তা শুধু দুঃখজনক নয়, এটি ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ব্যর্থতারই জ্বলন্ত প্রমাণ।

বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ইসরাইল ও ইরানের বিষয় নয়—এটা পুরো মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক পরীক্ষা। কিন্তু এই পরীক্ষায় মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব ব্যর্থ হচ্ছে।

ইরান ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও বহু মুসলিম দেশের কাছে রাজনৈতিকভাবে একঘরে। সুন্নি-শিয়া বিভাজন, পারস্য-আরব বৈরিতা এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল তাকে এক ঘোরতর একাকীত্বে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু আজ যখন ইসরাইল তার মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ করছে, তখন ইরানের প্রতিরোধচেতনা একটি বৈশ্বিক প্রতীক হয়ে উঠছে—যদিও এটি দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই প্রতিক্রিয়া মুসলিম দেশগুলোর নয়, বরং ইরানের একক প্রতিক্রিয়া।

ইরান যদি একটি পশ্চিমা মিত্র দেশ হতো, তাহলে ইসরাইলের এই হামলাকে জাতিসংঘে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে ঘোষণা করা হতো। কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালা শুধু শক্তিশালী রাষ্ট্রের সুবিধামতো প্রয়োগ হয়। এখানেই মুসলিম বিশ্বের দুর্ভাগ্য—তারা নিজেদের জনসংখ্যা, অর্থনীতি ও ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এক বড় শক্তি হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিকভাবে একেবারেই তুচ্ছ।

ইতমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইসরাইলের পক্ষেই অবস্থান গ্রহণ করেছে, যদিও ইউক্রেন যুদ্ধের সময় এরাই রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার জন্য দায়ী করেছিল। মুসলিম রাষ্ট্রগুলো তাদের এই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে না এবং সম্মিলিতভাবে বিশ্ব ফোরামে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতে পারছে না।

গত শনিবার দুই দেশের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর প্রতিশোধে ইরান মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে মিসাইল হামলা চালানো শুরু করে। থেমে নেই ইসরায়েলও। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—যতদিন প্রয়োজন, ততদিন অভিযান চলবে।

তবে তেহরানের এই আক্রমণ সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনগুলোতে সংঘাত আরও বিস্তৃত ও মারাত্মক আকার নিতে পারে।

অন্যদিকে, খামেনির মৃত্যুর পর আরব দুনিয়ায় যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল, তা এবার সরাসরি লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে বড়সড় সংঘাতের রূপ নিয়েছে। তেহরান খামেনির নিহত হওয়ার খবর ঘোষণা করতেই ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে শুরু করে। যদিও লেবানন সরকার এ পদক্ষেপকে কোনোভাবেই সমর্থন করেনি। এরপরই সোমবার ভোরে ওই দেশের রাজধানী বৈরুতসহ একাধিক জায়গায় হামলা চালায় ইসরায়েল।

ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের আক্রমণ শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এসব সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।

এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও তাদের আগ্রাসী মনোভাবের প্রকাশ ঘটিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গোটা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

গত শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ড মানবতা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আলী খোমেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইরানকে দুর্বল করে দেওয়ার ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চেষ্টা সফল হবে কি না, তা জানতে আমাদের আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি ছিলেন সমকালীন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলার এবং আপসহীন নেতা। এই মহান পুরুষ সারাজীবন ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য লড়ে গেছেন। শাহী শাসনের জুলুম থেকে ইরানকে মুক্ত করা এবং ইসলামি বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বহুমুখী বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার মূল কারিগর ছিলেন।

তাঁর লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম বিশ্বের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তিনি সর্বদা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আত্মার উন্নতি ও মুসলিম মিল্লাতকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার দীক্ষা দিয়েছেন। ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে তাঁর কণ্ঠ ছিল সর্বদা উচ্চকিত।

ইরানের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অভিভাবক আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর শাহাদাত বরণ কেবল একটি রাষ্ট্রের নেতার মৃত্যু নয়, বরং এটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর হৃদপিণ্ডে একটি বিষাক্ত তীরের আঘাত।

পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে খামেনীর শাহাদাতের পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত এই বর্বরোচিত হামলা এক চরম নিষ্ঠুর ও পরিকল্পিত আগ্রাসন। এটি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় মর্যাদার ওপর এক নগ্ন হস্তক্ষেপ।

এই হামলা শুধু ইরানের সার্বভৌমত্বকে বিদ্ধ করেনি, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের অস্তিত্বকে আজ কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

শত্রুরা ভেবেছিল, আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনিকে হত্যা করলেই ইরান বিপ্লবের মৃত্যু হবে। কিন্তু তারা জানে না যে, একজন খামেনির রক্ত থেকে লাখ লাখ বিদ্রোহী জন্ম নেবে। তার মৃত্যুতে আজ তেহরান থেকে বাগদাদ, বৈরুত থেকে গাজা—সবখানে হাহাকার।

কবির ভাষায়—‘মৃত্যু তোরে ডরাই না আমি, মৃত্যু আমার হাতছানি।’ তিনি চেয়েছিলেন লড়াই করতে করতে শহীদ হতে, আর মহান আল্লাহ তাঁর সেই প্রার্থনা কবুল করেছেন।

তাঁর এই মহাপ্রয়াণ কেবল একটি বিয়োগান্তক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি নতুন বিপ্লবের সূচনালগ্ন। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চলে গেছেন সত্য, কিন্তু তিনি রেখে গেছেন এক অপরাজেয় আদর্শ এবং একটি নির্ভীক জাতি।

তার মৃত্যু মুসলিম বিশ্বের জন্য এক বিরাট শিক্ষা—শত্রুর কাছে মাথা নত না করে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচার শিক্ষা।

মুসলিম বিশ্বের নীরবতা এক কলঙ্কিত আত্মসমর্পণ। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো তথাকথিত ‘মুসলিম পরাশক্তি’ দেশগুলোর নীরবতা। সৌদি আরব, কাতার, ওমান কিংবা কুয়েত—তাদের এই নিস্পৃহতা কেবল রাজনৈতিক দ্বিধা নয়, এটি একটি চরম নৈতিক সংকট।

ইতিহাস সাক্ষী, যখনই মুসলিম দেশগুলো শক্তিশালী আগ্রাসীর সামনে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে, তখনই সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিয়েছে। এই নীরবতা আসলে আগ্রাসীদের আরও উগ্র হতে উৎসাহিত করছে।

আপনারা কি সত্যিই মুসলিম? নাকি শক্তিশালী রাষ্ট্রের দাসত্বই এখন আপনাদের স্বার্থপরতার প্রধান নিদর্শন?

এই মুহূর্তে আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনিকে হত্যার পর মুসলিম বিশ্বের উচিত এখনই নতুন করে চিন্তা করা—কিভাবে একটি বাস্তব ও কার্যকর মুসলিম জোট গড়ে তোলা যায়, তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

ওআইসিকে কাগজের পুতুল না রেখে ঢেলে সাজাতে হবে। শুধুমাত্র বিবৃতিমুখী নয়, বরং সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সংগঠনে রূপ দিতে হবে।

তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও কাতার—এই দেশগুলো মিলে একটি বিকল্প কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট গঠন করার বিষয়টি ভাবতে পারে।মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে যে কোনো যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের প্রত্যাশা—বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতি এড়াতে ইসরায়েলের মিত্র হিসেবে পরিচিত পশ্চিমা শক্তিগুলো এই যুদ্ধ বন্ধে তৎপর হবে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের উত্তেজনা নিরসনে তো বটেই, ফিলিস্তিন ইস্যুতেও পশ্চিমা শক্তি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।যদি আজ আমরা ইরানের পাশে না দাঁড়াই, তবে কাল এই আগুনের আঁচ থেকে মক্কা-মদিনা কিংবা কায়রো—কোনোটিই নিরাপদ থাকবে না।

সময়ের দাবি হলো সম্মিলিত রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। মুসলিম বিশ্বকে স্মরণ রাখতে হবে—ফিলিস্তিনে জাতিগত নিধন প্রায় সম্পন্ন, এবার ইরানের পালা! অথচ পাশে নেই মুসলিম বিশ্ব!বিশ্বের অশান্তিকামী গোষ্ঠী ইরানেও কথিত পরিবর্তনের নামে ‘আরব বসন্ত’-এর সূচনা করার ষড়যন্ত্র করছে।

ইরাক সেই কবে হারিয়েছে তার সম্ভ্রান্ত জাতিসত্তার গৌরব। লিবিয়ার গাদ্দাফি সরব হয়েছিলেন আফ্রিকার দেশে দেশে পশ্চিমাদের সাম্রাজ্যবাদের নখর উপড়ে দিতে। আফ্রিকান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে অভিন্ন মুদ্রা ‘স্বর্ণ দিনার’ চালুর কথা জোরেশোরে ঘোষণা দিয়ে মাঠেও নেমেছিলেন তিনি। যার পরিণতি তাকে ভোগ করতে হয়েছে মুসলিম বিশ্বের অসহযোগিতার কারণে।

সিরিয়ার ভাগ্যেও ব্যতিক্রম হয়নি। কথিত আরব বসন্তের নামে বাশার আল আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি নিকট অতীতের ঘটনা। বাশার আল আসাদ প্রাণে বেঁচেছেন বটে, তবে সিরিয়া আজ ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর গৃহযুদ্ধে কবলিত এক জনপদে পরিণত হয়েছে।

এবার মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর ইরানকেও মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবুও যদি মুসলিম বিশ্বের টনক না নড়ে, তাহলে বিশ্বের মুসলমানদের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও কঠিন মাশুল গুনতে হবে।


(লেখক: রাজনীতিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক E-mail: [email protected])


[ আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ও শ্রদ্ধাশীল। এই বিভাগে লেখকের ‘মতামত’ একান্তই তার নিজস্ব; যার দায়ভার রিপোর্টার্স২৪ বহন করে না। ধন্যবাদ ]

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪