| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

লক্ষ্মীপুরে গভীর রাতে সরকারি দিঘীর মাছ ধরে নিয়ে গেলো সহকারি কমিশনার!

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০৩, ২০২৬ ইং | ১২:২২:৪৫:অপরাহ্ন  |  ৩৬৪০২৮ বার পঠিত
লক্ষ্মীপুরে গভীর রাতে সরকারি দিঘীর মাছ ধরে নিয়ে গেলো সহকারি কমিশনার!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের দালাল বাজার এলাকার খোয়াসাগর দিঘী থেকে রাতের অন্ধকারে মাছ ধরার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায় জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল ছিলেন। পরে সরকারি গাড়িতেই মাছগুলো নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ধরা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের রায়পুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ঐতিহ্যবাহী খোয়াসাগর দিঘী থেকে মাছ ধরার কর্মযজ্ঞ চলে।

খবর পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হয়ে ভিডিও ধারণ করেন। ঘটনার সময় সহকারি কমিশনার শেখ সুমনের কাছ থেকে ভিডিও বক্তব্য চাইলে তিনি কৌশলে সটকে পড়েন। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দিঘীটি ইজারা না দেওয়ায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর রাতের অন্ধকারে প্রশাসনের লোকজন মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এটি দুঃখজনক ঘটনা। রাতের অন্ধকারে কেন মাছ ধরতে হবে? এ ঘটনাকে চুরিই বলা যায়। প্রায় আড়াইশ বছরের ঐতিহ্যবাহী খোয়াসাগর দিঘী বিস্তৃত প্রায় ২৫ একর। একসময় এ দিঘী লক্ষ্মীপুর পৌরসভা থেকে ইজারা দেওয়া হত। প্রায় ১০ বছর আগে প্রাক্তন ডিসি জিল্লুর রহমান চৌধুরী দিঘীটি জেলা প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসে। এরপর থেকে দিঘীটি ইজারা দেওয়া হয় কি না কেউ জানে না।

দীর্ঘসময় দিনের আলোতে মাছ ধরতেও কেউ দেখেনি। এই দিঘীতে এখন কারা মাছ ফেলে, কারা ধরে কেউ বলতে পারছে না। এদিকে হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার রাতে দুইজন সহকারি কমিশনারের উপস্থিতিতে দিঘী থেকে মাছ ধরা হয়। আবার ওই মাছ সরকারি গাড়িতে (লক্ষ্মীপুর-ঠ ১১-০০১৯) উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে (ঢাকা মেট্রো- ১৩-৩৭৭৮) নাম্বারের আরও একটি সরকারি গাড়ি ছিল। দুটি গাড়ি করেই মাছ নিয়ে যাওয়া হয়। এসব দৃশ্য ভিডিও দেখা যায়। প্রায় দুই টন মাছ ধরে নিয়ে গেছে প্রশাসনের লোকজন।

এতে কাতল, রুই, চিতল, আইড় ও পাঙ্গাস মাছ ছিল। একেকটি চিতল প্রায় ৭-৮ কেজি ওজনের হবে। সবগুলো মাছ প্রশাসনের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে গেছে প্রশাসন। তবে কোথায় নিয়েছে, কি করেছে, রাতের অন্ধকারেই কেন ধরতে হয়েছে তা বলতে পারেনি কেউ।  তবে দুইজন ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ১১২ কেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রি করা হয়েছে।

রাতে মাছ ধরা নিয়ে প্রশ্ন করলে সহকারি কমিশনার হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মাছগুলো নিয়ে ডিসি অফিস থেকে পরে জানানো হবে। মাছগুলো ডিসি অফিসে নেওয়া হচ্ছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪